রংপুরের তারাগঞ্জে বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও শেষ মুহূর্তে বরপক্ষের কথিত যৌতুক দাবির কারণে ভেঙে গেছে একটি বিয়ে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও বিচার চেয়ে কনের বাবা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বদরগঞ্জ উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে তারাগঞ্জ উপজেলার এক যুবকের বিয়ে নির্ধারিত ছিল গত রোববার রাতে। বিয়েকে ঘিরে কনের বাড়িতে প্যান্ডেল নির্মাণ, রান্নাবান্না ও বরযাত্রীদের আপ্যায়নের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বরপক্ষ বিয়েতে উপস্থিত হয়নি।
কনের পরিবারের দাবি, বিয়ের আগে বরপক্ষ যৌতুক হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা এবং ঘর সাজানোর জন্য আরও তিন লাখ টাকা দাবি করে। মোট আট লাখ টাকার এই দাবি পূরণ না হওয়ায় বরপক্ষ শেষ মুহূর্তে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়।
কনের বাবা বলেন, “মেয়ের গায়ে হলুদ সম্পন্ন হয়েছে। এখন সমাজে মুখ দেখানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু প্রতিকার চাই।”
অন্যদিকে, যৌতুক দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছে বরের পরিবার। বরের বাবার দাবি, তারা কোনো যৌতুক চাননি। বরং দেনমোহরের পরিমাণ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে মতবিরোধের কারণে ছেলে বিয়েতে যায়নি। তবে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হলে তা দেওয়ার বিষয়ে তারা ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন।
তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বের হোসেন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী বিয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌতুক দাবি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধে সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।









