কোনো ধরনের তদবির, সুপারিশ বা ঘুষের লেনদেন ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব মেধা ও শারীরিক সক্ষমতার ভিত্তিতে পটুয়াখালীতে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন ২৯ জন তরুণ-তরুণী। মাত্র ৫৬ টাকা সরকারি ফি দিয়ে চাকরি পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ও তাদের পরিবার।
আজ সোমবার জেলা পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত এই ২৯ জন নতুন কনস্টেবলকে ফুল দিয়ে বরণ ও অভিনন্দন জানানো হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই আবেদন শুরু হয় ৫ মার্চ। আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ৩১ মার্চ। মোট ২ হাজার ১ শত ৩৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৪১৮ জন। এর মধ্যে ৯৩ জন উত্তীর্ণ হন মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) জন্য। মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২৯ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয় এবং অপেক্ষায় রাখা হয় ৫ জন।
তারা আরো জানায়, ‘শতভাগ স্বচ্ছতা, সততা ও নিপেক্ষতার নীতি বজায় রেখে এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। কনস্টেবল পদের জন্য আবেদনকারী প্রার্থীদের শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাই, শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা এবং সবশেষে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতমদের নির্বাচন করা হয়।’
চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, নির্বাচিতদের সিংহভাগই অত্যন্ত দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কোনো প্রকার অতিরিক্ত অর্থ বা লবিং ছাড়া, শুধুমাত্র ব্যাংকের ৫৬ টাকার সরকারি ফি দিয়ে চাকরি পেয়ে অনেক প্রার্থী আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
তারা বলেন, ‘আমাদের পরিবারে কোনো বড় তদবির করার লোক নেই, লাখ লাখ টাকা দেওয়ার সামর্থ্যও নেই। শুধু মাত্র ৫৬ টাকা ব্যাংক ড্রাফট দিয়ে আবেদন করেছিলাম। ভেবেছিলাম আমাদের মতো গরিবের চাকরি হয়তো হবে না। কিন্তু আজ নিজের চোখে দেখলাম, বর্তমান পুলিশ প্রশাসন কতটা স্বচ্ছ। নিজের মেধা আর যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি, এটা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
নবনির্বাচিতদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার সময় পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোঃ আবু ইউসুফ বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম যে একটি স্বচ্ছ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া উপহার দেব। মেধা ও শারীরিক যোগ্যতার ভিত্তিতে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা পটুয়াখালী জেলার গর্ব। কোনো প্রকার দালালের খপ্পরে না পড়ে, নিজেদের যোগ্যতায় মাত্র ৫৬ টাকায় তারা আজ বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য হয়েছেন।’
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এই তরুণ অফিসাররা আগামীদিনে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দেশের সেবা করবেন এবং পুলিশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবেন।









