মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এ বছর সাগর উত্তাল থাকায় কার্যত দুইদিন আগেই শতকরা ৯৫ ভাগ জেলেরা সাগর থেকে খালি হাতে ফিরেছেন। ইলিশ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। এ বছর লম্বা জালে বড় ফাঁসের ইলিশ ধরার ৭০ শতাংশ জেলে, ট্রলারমালিকরা শত কোটি টাকার লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই এই নিষেধাজ্ঞা পালন করছেন। তবে ছোট ফাঁসের, ছোট্ট ট্রলারের জেলেরা লাভের মুখ দেখতে পেয়েছেন।
জেলরা বলছেন, পুরো মৌসুম জুড়েই কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মেলেনি। ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ছয়-সাত দফায় মাছ শিকার করতে পারেন নি। শেষ দুইদিনও দূর্যোগে ঘাটে ছিলেন। তারপর ফের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা পালন করছেন। এরপর মৌসুম শেষ হওয়ার শঙ্কা করছেন জেলেরা। ফলে এই মৌসুমের লোকসানের হিসাবকে ধরেই ইলিশ শিকারের সমাপ্তি করছেন হাজারল জেলে। পাঁচ-দশ লাখ টাকার লোকসান পড়েছেন শতকরা ৬০ ভাগ জেলে ও ট্রলার মালিকরা। দেনার বোঝায় কাহিল হওয়া এসব মানুষ পেশায় অনিশ্চয়তার ধকল দেখছেন। এছাড়া অধিকাংশ জেলেসহ সংশ্লিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ীর দাবি এখন পর্যন্ত ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। প্রজনন মোসুম আসতে আরো ১৫ দিন পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে তাঁদের মতামত। খবর সরেজমিন অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
সূত্রমতে, ইলিশের বৃহৎ মোকাম মহিপুর-আলীপুর খাপড়াভাঙ্গা নদীর দুই পাড়ে দুইদিন আগে থেকেই ভিড়তে থাকে শত শত ট্রলার। কারণ সাগর উত্তাল ছিল। তাই দখিণের বৃহৎ এই মোকাম এ বছর অবরোধের আগের রাতে নেই ইলিশ বেচাকেনার রমরমা হাকডাক। জেলেরা অধিকাংশই বাড়িতে ফিরেছেন। এখনও আশপাশের অনেকে ফিরছেন। এ বছর কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা না মেলায় জেলেরা এখন অনেকটা হতাশায় পড়েছেন। ট্রলারমালিকরাও দেনার বোঝায় কাহিল।
আলীপুর মৎস্য বন্দরের একাধিক আড়ত মালিক জানান, এ বছর এই এলাকার ছোট ট্রলার জাটকা থেকে শুরু করে তার চেয়ে একটু বড় প্রচুর ইলিশ পেয়েছেন। তবে এই মোকাম ব্যবহার করা বড় ট্রলারের লম্বা জালের শতকরা ৭৫ ভাগ ট্রলার কাক্ষিত মাছ পায়নি। বড় বোট মালিকের ২০/৩০ লাখ পর্যন্ত লোকসান হয়েছে।
মহিপুর ফয়সাল ফিসের মালিক ও মহিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলু গাজী বলেন, ‘এবার ২২ দিনের অবরোধ আরো ১৫-২০দিন পেছানোর দরকার ছিল। কারণ ইলিশের পেটে এখন কেবল ডিম আসতে শুরু করছে। প্রজনন মৌসুম আসেনি। মাঠ পর্যায়ের জেলেসহ মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেই এই সময় নির্ধারণ করা দরকার ছিল।’
তিনি জানান, এ বছর বড় ইলিশ খুব কম ধরা পড়ছে। লম্বা জালে বড় ইলিশের ট্রলারের জেলে মালিকরা শত শত কোটি টাকার লোকসানে রয়েছেন। তবে ছোট বোট ছোট ইলিশ ধরার জেলেরা কিছুটা লাভে রয়েছেন বলে এই ব্যবসায়ী জানালেন।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। সচেতনতার পাশাপাশি অভিযান শুরু হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে কলাপাড়ার নিবন্ধিত ১৮ হাজার ৩০৫ পরিবারকে সরকারিভাবে বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে জেলে পরিবারের সদস্যরা এই নিষেধাজ্ঞকালীন খাদ্য সহায়তা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃত জেলেদের দেওয়ার দাবি করছেন।









