তপ্ত রোদে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, তখন প্রকৃতিতে প্রাণের স্পন্দন নিয়ে হাজির হয়েছে রক্তিম আভা। গ্রীষ্মের এই খরতাপে প্রকৃতিকে শীতল পরশ দিতে মে মাসের শুরু থেকেই ফুটতে শুরু করেছে নয়নকাড়া ‘মে ফ্লাওয়ার’। বাগানের কোণে কিংবা রাস্তার ধারে এখন এই ফুলের মেলা, যা পথচারীদের নজর কাড়ছে অনায়াসেই।
আগ্নেয়গিরির মতো রূপ, শান্ত স্বভাব
মে ফ্লাওয়ারের বৈজ্ঞানিক নাম Scadoxus multiflorus। এটি মূলত আফ্রিকার উদ্ভিদ হলেও আমাদের দেশে শোভাবর্ধনকারী ফুল হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। এর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য একে অন্য সব ফুল থেকে আলাদা করে তুলেছে।ফুলটি দেখতে অনেকটা টেনিস বলের মতো গোলাকার। অসংখ্য ছোট ছোট পাপড়ি মিলে একটি বড় বল তৈরি করে। গাঢ় লাল বা কমলাটে লাল রঙের এই ফুলটি দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন মাটির বুক চিরে বের হওয়া কোনো অগ্নিশিখা। মে ফ্লাওয়ার খুব বেশিদিন সতেজ থাকে না। সাধারণত ফোটার পর এক থেকে দুই সপ্তাহ এর সৌন্দর্য অটুট থাকে। নামেই যার পরিচয়, সেই মে ফ্লাওয়ার ফোটে মূলত মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই। এটি মূলত বাল্ব বা কন্দ থেকে জন্মানো উদ্ভিদ। বছরের বাকি সময় এই গাছটি সুপ্ত অবস্থায় থাকলেও মে মাসের শুরুতেই পাতা আসার আগেই মাটি ভেদ করে বেরিয়ে আসে এর ফুলের ডাঁটা। অনেক জায়গায় এটি ‘বল লিলি’ বা ‘ফায়ারবল লিলি’ নামেও পরিচিত।
শহরের ইট-কাঠের জঙ্গলে যাদের এক চিলতে বাগান বা বারান্দা আছে, তাদের অনেকেই এখন মে ফ্লাওয়ারের প্রেমে মজেছেন। খুব অল্প যত্নে এবং সীমিত রোদেও এই ফুল ভালো হয় বলে শৌখিন বাগানীদের কাছে এর কদর অনেক বেশি।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বীজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইউনিটের ছাত্র প্রান্ত আনামের ভাষ্য মতে, প্রকৃতিতে এরকম ফুল খুব কমই দেখা যায়।শুধু মে মাসে সপ্তাহ খানেকের জন্য ফোটে বিধায় সারা বছর এই ফুলের দেখা পেতে অপেক্ষা করা হয়।








