গণদাবী রিপোর্ট: প্রকৃতিতে এখন গ্রীষ্মের দহন। পিচঢালা পথ থেকে শুরু করে তপ্ত দুপুরের বাতাসে যখন হাঁসফাঁস অবস্থা, ঠিক তখনই প্রকৃতিপ্রেমীদের চোখে প্রশান্তি এনে দিচ্ছে সোনালু ফুল। গাছের ডাল থেকে ঝাড়লণ্ঠনের মতো ঝুলে থাকা হলদে রঙের এই ফুল জানান দিচ্ছে প্রকৃতি তার নিজস্ব রঙে এখনো অমলিন।
বাংলার ঋতুবৈচিত্র্যে সোনালু ফুলের কদর বরাবরই আলাদা। গ্রামবাংলার মেঠো পথ কিংবা শহরের কোনো উদ্যান সবখানেই এখন সোনালুর জয়গান। এর ইংরেজি নাম Golden Shower (গোল্ডেন শাওয়ার)। নামটির সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায় যখন বাতাসের দোলায় ডাল থেকে ঝরনাধারার মতো হলুদ ফুলগুলো দুলতে থাকে। সোনালুর আদি নিবাস হিমালয় পাদদেশীয় অঞ্চল হলেও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এটি অতি পরিচিত। সোনালু মূলত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। এর পাতা, বাকল ও ফল বিভিন্ন কবিরাজি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এর ফুলগুলো বেশ লম্বা মঞ্জুরিতে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকে। সোনালুর ফলগুলো দেখতে অনেকটা লম্বা লাঠির মতো, তাই গ্রামীণ জনপদে একে অনেকে ‘বানরলাঠি’ বা ‘বাঁদরলাঠি’ গাছ হিসেবেও চেনে। এই গাছটি মাটির ক্ষয়রোধে সাহায্য করে এবং এর কাঠ বেশ শক্ত মানের হয়।
একসময় দেশের গ্রামগঞ্জে প্রচুর পরিমাণে সোনালু গাছ চোখে পড়লেও নগরায়ন ও বনায়নের নামে বিদেশি গাছের ভিড়ে সোনালু এখন অনেকটাই কোণঠাসা। নতুন করে বনায়নের তালিকায় এই দেশি গাছটির নাম খুব একটা থাকে না। পরিবেশবাদীদের মতে, দেশি প্রজাতির এই বৃক্ষটি রক্ষা করা কেবল সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং জীববৈচিত্র্য রক্ষার খাতিরেও জরুরি।
পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র তাসফিন প্রান্ত বলেন, “পটুয়াখালী শহরে সোনালু গাছ তেমন একটা চোখে পরে না। পটুয়াখালী বর্তমানে ইমারতের শহরে পরিণত হয়েছে।আমার দাদা বাড়িতে আগে এ ফুলের শোভা দেখা যেত।সোনালু ফুলের সাথে আমার শৈশব জড়িত।”
বিকেলের রোদে সোনালু গাছের নিচ দিয়ে হেঁটে গেলে মনে হয় যেন কোনো এক সোনালি রাজ্যে প্রবেশ করা হয়েছে। প্রকৃতির এই অনন্য উপহারকে টিকিয়ে রাখতে বাড়ির আঙিনায় বা রাস্তার পাশে সোনালুর চারা রোপণের আহ্বান জানাচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে সামান্য সময় এই হলুদ উৎসবের দিকে তাকালে মনটা সতেজ হয়ে ওঠে মুহূর্তেই।






