মোঃ মিজানুর রহমান, কুয়াকাটা: আজ (শুক্রবার) মধ্যরাত থেকে সাগর ও নদীতে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে। আগামী ২২ দিন, অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এ সময় মাছ ধরা, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে মৎস্য অধিদপ্তর।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার অংশ হিসেবে শুক্রবার সকাল থেকেই উপকূলের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালানো হয়। ফলে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অধিকাংশ মাছধরা ট্রলার মহিপুর ও আলিপুর মৎস্যবন্দরের পাশাপাশি শিববাড়িয়া নদীতে নোঙর করেছে।
স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই তাদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছিল। এতে তারা খুশি হলেও হঠাৎ আসা এ অবরোধে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। জেলে রুহুল মাঝি, নয়া মাঝি ও নুরু মাঝিসহ অনেকে বলেন, সরকারের দেওয়া ভিজিএফ চাল ও সামান্য আর্থিক সহায়তা তাদের জীবিকার চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়। তারা প্রণোদনা আরও বাড়ানোর দাবি জানান।
এ সময় জেলেদের অভিযোগ, প্রতিবছর নিষেধাজ্ঞার সময়ে পাশ্ববর্তী দেশের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে নির্বিচারে মাছ শিকার করে যায়। এতে একদিকে স্থানীয় জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে দেশের ইলিশের উৎপাদনও হুমকির মুখে পড়ছে। তাদের দাবি, স্থানীয় জেলেদের নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি সমুদ্রে নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করতে হবে, যাতে বিদেশি জেলেদের আগ্রাসন ঠেকানো যায়।
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার সময় আইন অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, টেকসই ইলিশ উৎপাদন ও প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের সহযোগিতা অপরিহার্য।









