মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলকায় টুরিস্ট পুলিশের বিচ বাইক ও ওয়াটার বাইকগুলো কতদিন ধরে অবহেলা আর অযত্নে পড়ে আছে তার সঠিক হিসাব তাদের কাছেও নেই। অথচ এসব যানবাহন কাগজে কলমে ব্যবহার দেখানো হয়। অকেজো কিংবা অব্যবহৃত এসব যানবাহন ব্যবহারের ব্যয়ভার বাবদ খরচ দেখানো হচ্ছে। আবার সংস্কারের নামেও অর্থ ব্যয় করার খবর মিলেছে।
তবে স্থানীয়দের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানালেন, টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হাবিবুর রহমান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈকতঘেষা টুরিস্ট পুলিশবক্সের পাশেই পড়ে আছে জংধরা কয়েকটি বিচ বাইক। দীর্ঘদিন ব্যবহারের অভাবে এসব প্রায় অকেজো হয়ে আছে। দেখলে বোঝার উপায় নেই, এগুলো কখনও উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ কাগজে-কলমে এসব যান সচল দেখিয়ে নিয়মিত খরচ উত্তোলন করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
একই দশা ওয়াটার বাইকগুলোর। পর্যটন হলিডে হোমস্ মাঠে পড়ে আছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কখনো ব্যবহৃত হয়নি। এক কথায় ট্যুরিস্ট পুলিশের সচল কোন উদ্ধার যান নেই। বক্সে বসে সৈকতের ফ্রেস আবহাওয়া উপভোগেই কেটে যায় তাঁদের সময়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এসব বিচ বাইক ও ওয়াটার বাইক ব্যবহার করে সমুদ্রে নামা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেখা যেতো। সাগরে গোসলে নামা পর্যটকরা বিপদে পড়লে কিংবা স্রোতের তোড়ে হারিয়ে যাওয়ার সময় এসব যান দ্রুতসময়ের মধ্যে তাঁদের উদ্ধার করতেন। বর্তমানে এসব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে পর্যটকেরও উৎকন্ঠা বাড়ছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সাগর ভয়াল উত্তাল হয়ে ওঠে কুয়াকাটা। এ সময় অতীতে একাধিক পর্যটক নিখেঁাজ হয়ে ভেসে গেছেন। প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটেছে। অথচ ট্যুরিস্ট পুলিশের নিজস্ব উদ্ধার যান সচল নেই।
কুয়াকাটা টুরিজম ম্যানেজমেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হোসাইন আমির বলেন, সমুদ্রে দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিচ বাইক ও ওয়াটার বাইক খুবই প্রয়োজন। কিন্তু এগুলো বছরের পর বছর অচল পড়ে আছে। যদি সত্যিই বিল উত্তোলন হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি নিন্দনীয়। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পর্যটক খায়রুল হাসান জানান, কুয়াকাটা সৈকতে দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। ট্যুরিস্ট পুলিশ থাকলেও তাদের তৎপরতা চোখে পড়ে না। সৈকতে ইজিবাইক, অটো, মোটরসাইকেল ও হকারদের উৎপাতেই বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শিশু-কিশোরদের নিয়ে পরিবারের লোকজনকে তটস্থ থাকতে হয়। মোটরসাইকেলের উচ্চ হর্ণের শব্দে শিশুরা ভয়ে আৎকে ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, বিগত বছরগুলোতে এসব বাইক সংস্কারের জন্য টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কিছু যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে। যা মেরামত বা প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। পর্যটকের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সক্রিয় রয়েছে।









