মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পুলিশের নারী কনস্টেবলের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই সন্তানের জননী এই হতভাগীর নাম মেহেরুন্নেছা উর্মি (২৭)।
শনিবার ভোররাতে কলাপাড়া থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। পৌরশহর লাগোয়া টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের ভাড়া বাসার তিন তলার একটি কক্ষ থেকে উর্মির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়না তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম এ খবর নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত দেড়টার দিকে উর্মির স্বামী বাপ্পী থানা পুলিশকে এ ঘটনা জানায়। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। কনস্টেবল মেহেরুন্নেছা উর্মি ২০২৫ সালের ১২ মে কলাপাড়া থানায় যোগদান করেন। তাঁদের চার বছর বয়সী ফারিস্তা ও দেড় বছর বয়সী ফারদিন নামের দুই সন্তান রয়েছে। কলাপাড়া শহর লাগোয়া আমিরুল ইসলামের বহুতল ভবনের তিন তলার একটি কক্ষে তারা ভাড়া থাকতেন।
মৃত মেহেরুন্নেছা উর্মির স্বামী পুলিশের চাকরিচ্যুত সদস্য মহিবুর রহমান বাপ্পীও এ সময় বাসায় ছিলেন। তার বাড়ি বাউফল উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামে। আর মেহেরুন্নেছার বাড়ি আমতলী পৌরশহরে। তার বাবার নাম শাহজাহান মিয়া।
স্বামী বাপ্পীর দাবি পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রতিদিনের মতো কথা কাটাকাটি হয়েছে। এক পর্যায়ে তার অগোচরে ডাইনিং রুমের দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে গলায় ফাঁস দিয়ে উর্মি আত্মহত্যা করেন।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম আরো জানান, উর্মির মা খাদিজা বেগম, স্বামী মহিবুর রহমান বাপ্পীকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে মৃতের কারণ নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে পারিবারিক কলহের জের ধরে এই আত্মহননের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অপরদিকে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নে পায়রা বন্দরের চান্দুপাড়া আবাসন পুনর্বাসন প্রকল্পের বাসীন্দা এক সন্তানের জননী ফারজানা বেগমের (২০) ঝুলন্ত মরদেহ শনিবার বেলা ১১ টার দিকে পুলিশ উদ্ধার করেছে।
এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন ওসি মো. নজরুল ইসলাম।









