কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় আবারও শুরু হয়েছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল দশটায় উপজেলার কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে পরীক্ষা শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল লক্ষ্যণীয়ভাবে কম।
সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে থেকেই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে কেন্দ্র প্রাঙ্গণ। উপজেলার ৬৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মোট বৃত্তি পরীক্ষার্থী ছিল ৩১৪ জন, তারমধ্যে পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা পরীক্ষায় অনুপস্থিত ১৫৫ জন, উপস্থিতি ১৫৯ জন পরীক্ষার্থী।
দীর্ঘ ১৬ পর পুনরায় চালু হওয়া এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অনেক দিন পর হুট করে এই পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরে আসা এবং প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী আবেদন করেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। এছাড়া ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এবং অনেক অভিভাবকের অসচেতনতাকেও এই কম উপস্থিতির কারণ হিসেবে মনে করছেন শিক্ষকরা।
এছাড়া ডিসেম্বর মাসের পরীক্ষা এপ্রিল মাসে শুরু হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষা দেবার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে, অনেকে নতুন ক্লাসে ভর্তি হয় পড়াশোনা শুরু করেছে জোরেশোরে। তাই তারা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি।
কাউখালী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার সাথে ১৬ বছর পর আবারও বৃত্তি পরীক্ষা নিতে পারছি। উপস্থিতির সংখ্যা কিছুটা কম হলেও যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তাদের মধ্যে দারুণ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। আশা করছি আগামী বছরগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।
কয়েকজন অভিভাবক জানান, দীর্ঘ সময় পর বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে জাতীয়ভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মেধা যাচাইয়ের এই প্রাচীন ও জনপ্রিয় পদ্ধতিটি চালু হওয়ায় মেধাবীদের উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।









