রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী (পিরোজপুর): পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান কঁচা নদীর তীর ও বেকুটিয়া সেতুর নিচের ডলফিন চত্বর এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষের সমাগম ঘটছে। ঈদের দিন থেকে টানা ৫ দিন ধরে দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে ঘুরতে আসছেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা কঁচা নদীর মনোরম পরিবেশ, বেকুটিয়া সেতুর নান্দনিক দৃশ্য এবং নদীর বুকে ট্রলার ভ্রমণ দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ট্রলারে করে নদী ভ্রমণ উপভোগ করছেন। এছাড়া নদীর তীরে বসেছে ছোটখাটো মেলা, যেখানে শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
কাউখালীর পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর সদর, ভান্ডারিয়া, রাজাপুরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে ভিড় করছেন। বিশেষ করে বেকুটিয়া সেতুর উপর থেকে কঁচা নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি ও প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করছে।
পিরোজপুর সদর থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি। কঁচা নদীর সৌন্দর্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। ট্রলারে নদী ভ্রমণ করে খুব ভালো লেগেছে। তবে এখানে শিশুদের জন্য আরও আধুনিক বিনোদনের ব্যবস্থা করা হলে ভালো হতো।
ভান্ডারিয়া উপজেলার বাসিন্দা রেহানা আক্তার বলেন, বেকুটিয়া সেতুর উপর থেকে নদীর দৃশ্য অসাধারণ। ঈদের ছুটিতে এমন সুন্দর পরিবেশে সময় কাটাতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এখানে যদি পার্ক, প্রয়োজনীয় বসার স্থান ও শিশুদের খেলাধুলার আরও সুযোগ তৈরি করা হয় তাহলে এটি বড় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, কঁচা নদীর তীর ও ডলফিন চত্বরকে কেন্দ্র করে একটি স্থায়ী বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে কাউখালী।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদের ছুটিতে কঁচা নদীর তীর ও বেকুটিয়া এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এলাকাটিকে আরও আকর্ষণীয় ও পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
কাউখালী থানার ওসি (তদন্ত) এবাদ আলী বলেন, ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে কঁচা নদীর তীর ও বেকুটিয়া ডলফিন চত্বর এখন মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে স্থায়ী বিনোদন অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে কাউখালীতে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।








