দশমিনা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে আশানুরূপ বৃষ্টিপাত হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশী পরিমান জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়। যথা সময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় বোরো ধানের ক্ষেত সবুজে সবুজে ভরে গেছে। বেশ কয়েক দিন খরা থাকায় কৃষকরা বোরো ধানের বীজ রোপণ করলেও পানির অভাবে তা মরে যাওয়ার উপক্রম হয়ে ছিল। তবে কয়েক দিনের বষার্য় ধানের ক্ষেত সবুজ হয়ে গেছে। উপজেলায় এই বছর ধানের আধুনিক জাত-ব্রি ধান ১০১ রোপন করা হয়।
উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ এ্যান্ড রেসিলিয়েন ইন বাংলাদেশ(পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় কৃষকদেরকে বোরো ধানের আধুনিক জাত-ব্রি ধান ১০১ রোপন করতে বলা হয়। রবি মৌসুম ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে এই আধুনিক জাতের বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এই বছর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ২হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। তবে শ্রাবণে মাসে আবারও বৃষ্টি কমে যাওয়ায় কৃষকরা শঙ্কিত ছিল। চলতি বছর সময় মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে বলে কৃষকরা আশা করছে। চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিন দাসপাড়া গ্রামের কৃষক শংকর চন্দ্র জানান, গত কয়েক দিনে বৃষ্টির পানির পেয়ে বোরো ধানের চারা সতেজ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির কারণে বোরো ধানের আবাদে সেচ খরচ কম হয়। বৃষ্টির দেখা পেয়ে কৃষকদের হতাশা কেটে গেছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের বগুড়া গ্রামের চাষি আব্দুল হক সিকদার জানান, এই বছর বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে বেশী সেচ দিতে হয়নি। বোরো ধানের চাষ পুরোটাই সেচের উপর নির্ভর করতে হয়। উপজেলার দশমিনা সদর ইউনিয়নের আরজবেগী গ্রামের গৌরাঙ্গ শীল বলেন, আমাদের উপজেলার বেশিরভাগ জমি এক ফসলি। বোরো মৌসুমে এই ধান চাষ করে কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহামেদ বলেন, প্রয়োজনীয় সেচ ও বৃষ্টির কারনে বোরো আবাদে কোন সমস্যা হয়নি। কৃষকদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়ে ছিল। উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশী জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। চলতি বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা যায়।









