দশমিনা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ বিস্তীর্ন মাঠ জুড়ে সূর্যমুখীর সূর্যের হাসি বিরাজ করছে। চলতি বছর সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন দেখে কৃষকদের চোখেমুখে হাসি দেখা দিয়েছে। উপজেলার আবাদি ও অনাবাদি জমিতে তেলবীজ জাতীয় ফসল সূর্যমুখীর চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবার পাশাপাশি নতুন ভাবে স্বপ্ন দেখছে।
উপজেলার কৃষকরা সরকারী সব ধরনের প্রনোদনা পেয়ে সূর্যমুখীর চাষ ঝুঁকে পড়েছে। গত বছরের তুলনায় এই বছর ১০০ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়। ভোজ্য তেল সংকট নিরসনের জন্য রাজস্ব প্রকল্পের আওতায় অত্র উপজেলায় বারি-৩ জাতের সূর্যমুখীর চাষ করা হয়। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নসহ চরাঞ্চলে বিস্তীর্ন মাঠ জুড়ে ঘন সূর্যের হাসি বিরাজ করছে। সূর্যমুখী চাষ করায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এলাকার কৃষকরা নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। আবাদ সংকল্প দেখে মনে হয় এমন পরিশ্রমী কৃষকদের জন্যই দেশ এগিয় যাচ্ছে। কৃষি বিপ্লবের পাশাপাশি কৃষকরা নতুন করে সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সংকল্পিত কৃষকরা উপজেলার উত্তর বাঁশবাড়িয়া, মধ্য বাঁশবাড়িয়া, গছানী, ঢনঢনিয়া, চরহাসনাবাদ, নেহালগঞ্জ, আদমপুর, বহরমপুর, বগুড়া, দশমিনা, হাজিকাদা, গোলখালী, আরজবগী, সৈয়দজাফর, লক্ষীপুর, নিজাবাদ গোপালদী, বেতাগী-সানকিপুর, জাফরাবাদ, মাছুয়াখালী, আলীপুর, যতা, খলিশাখালী, চাঁদপুরা, রণগোপালদী, আউনিয়াপুর, গুলি, চরঘুনি, চরবোরহান, চরশাহজালাল, চরহাদিতে এই বছর বাড়তি লাভের আশায় সূর্যমুখী আবাদ করেছে।
উপজেলার চরহাদীর কৃষক জামাল গাজী জানান, গত বছরের চেয়ে এই বছর বেশি জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করছি। ব্লক পদ্ধতিতে কৃষকরা ৩০ একর জমির চাষ করেছে। আশানুরূপ ফলন পাবো বলে আশা করছি।
উপজেলার গ্রাম-গঞ্জের মাঠ জুড়ে হলুদ সূর্যমুখীর ফুলের সমারোহ চোখে পড়ার মতো। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে। উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সূর্যমুখীর চাষ। চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় ১৭ শত হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়। কম সময় আর স্বল্প খরচে ভালা লাভ পাওয়ায় চাষীরাও বেশ খুশি। সূর্যমুখীর নজরকাড়া সৌন্দর্য আলোকিত করে যে কাউকেই। সেই সাথে তেল হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে।
বলা হয়ে থাকে সয়াবিনের চেয়ে সূর্যমুখীর তেল বেশি পুষ্টিগুনসম্পন। আর্থিকভাব লাভজনক হওয়ায় এ ফুলের চাহিদা বেড়েই চলছে। এ কারণে উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে সূর্যমুখীর চাষ। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশতাধিক চাষী এ ফুল চাষ করেছেন। মাঠ জুড়ে আছে ফুল।
উপজেলার কৃষকরা বলেন, সূর্যমুখী চাষ করতে খরচ কম আর লাভ বেশি। সামান্য রাসায়নিক সার আর দুইবার সেচ দিতে হয়। নভেম্বরে বীজ বপনের পর ৮৪ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে তোলা যায় ফসল। অন্য ফসলের চেয়ে কম খরচে আর অধিক লাভ হওয়ায় এই সূর্যমুখীর চাষ করছেন অনেকেই। আগামীতে চাষের আগ্রহও প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের মাঃ মোহাম্মাদ হোসেন জানান, আমন ধান আবাদের পর ডাল না লাগিয়ে সূর্যমূখীর চাষ করছি। আর হয়েছেও ভালো ফলন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, এই বছর কৃষকরা বীজ সংরক্ষন ও তেল তৈরি করতে জমিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী সূর্যমুখীর আবাদ করেছে। আশানুরূপ ফলন পেতে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছি। কৃষকদেরকে ফসলের যত্ন নেয়ার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়। তেল জাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধি ও রাজস্ব প্রকল্পের আওতায় সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী কৃষকদের সরকারী ভাবে সব ধরনের সহায়তা করা হয়।
তিনি আরও জানান, ধান চাষের পর জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতে চাষাবাদ হচ্ছে সূর্যমুখী।
তিনি আরও বলেন, তেল জাতীয় অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী বীজে তেলের পরিমানও বেশি থাকে। নজরকাড়া সৌন্দর্য, সেই সাথে তেল হিসেবেও সূর্যমূখীর ব্যবহার রয়েছে।









