মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: আবহাওয়া খারাপ থাকায় সাগর উত্তাল ছিল, তাই টানা তিনদিন ঘাটে অবস্থান করছিলেন এফবি মা জান্নাত ট্রলারের ২৪ জেলে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত এ কারণে সাগরে মাছ শিকারে যেতে পারেননি এসব জেলে। মাঝি সালাহউদ্দিন জানালেন, শনিবার তেল, বরফ, বাজার সওদা রেডি করেছেন। রবিবার দুপুরের মধ্যে ফের সাগরে রওয়ানা দিবেন। আগমি ৪ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাত থেকে আবার ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। তাই হয়তো এটিই তাঁদের এবারের শেষ ট্রিপ হতে পারে। ভাগ্য সহায় হলে মাছ মিললে লাভের মুখ দেখতে পারবেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর-আলীপুর বন্দর থেকে সকাল থেকেই সাগরমুখি ট্রলার যাত্রাশুরু হয়েছে।
বললেন, ‘ আমরা যারা গভীর সমুদ্রে এ বছর লম্বা জালে বড় ইলিশের আশায় সাগরে যতবার গিয়েছি কমবেশি ইলিশ ঠিকই পেয়েছি। কিন্তু পরিমাণে খুবই কম। তাই শতকরা ৮০-৯০ ভাগ ট্রলারের জেলে, মালিক কিংবা আড়তদার লাভের মুখ দেখতে পাইনি। বরং কম গভীর এলাকায় ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে ধরা ছোট সাইজের ইলিশ ধরার জেলে, ট্রলারমালিক ও আড়ত মালিকরা বেশি লাভবান হয়েছেন। এ মাঝির ভাষ্য, ‘ধরা ইলিশের ৯০ শতাংশ ছোট মাছ। ৫-৬ টায় কেজি। মাঝারি সাইজের ৫০০-৭০০/৮৮০ গ্রাম সাইজের ইলিশও মোটামুটি ধরা পড়েছে।’ তবে আহামরি লাভে নেই- এই পেশা সংশ্লিষ্ট জেলেরা।
২২দিনের অবরোধের আগে এটি এখন পর্যন্ত সাগরের শেষ ট্রিপ ধরেই শনিবার রাতে থেকে সাগরে যাওয়া শুরু করেছেন শত শত ট্রলারের জেলেরা। তবে অত্যাধিক ভ্যাপসা গরম পড়ায় লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকার আশঙ্কায় রয়েছেন এ পেশা সংশ্লিষ্ট সবাই। সবাই এখন লাভ-লোকসানের হিসেব কষতে কষতে ফের ইলিশের আশায় সাগরপানে ছুটছেন। যদি এবারে কিছু ইলিশ মেলে। যদি লোকশানের ভারী পাল্লাটা যদি একটু হাল্কা করা যায়। শত শত ট্রলার এভাবে খাপড়াভাঙ্গা নদীর বিভিন্ন স্পট থেকে সাগরে ছুটতে দেখা গেছে।
মহিপুর মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, এ বছর ছোট ইলিশ ধরা পড়েছে অনেক বেশি। শতকরা ৮০-৯০ ভাগ। তবে দাম ভালো থাকায় কিছুটা সহায়ক হয়েছে। ছোট ইলিশ শিকার করা জেলে, ট্রলার মালিকরা অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে। আর লম্বা জালে গভীর সমুদ্রে বড় ইলিশ ধরার ট্রলার মালিক জেলে ও আড়ত মালিকদের লোকসানের পাল্লা বেশি। তারপরও আসছে ২২ দিনের অবরোধের আগে এটিই এখন পর্যন্ত জেলেদের সাগরে শেষ ট্রিপ বলে তিনিও মন্তব্য করেন।
এ কারণে মহিপুর-আলীপুরে বরফকলের ঘাটগুলোতে শনিবার থেকে জেলেদের সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। বাজারঘাট সংগ্রহ করে সবাই ছুটছেন সাগরমুখে। যদি এবারে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মেলে। জেলেদের মধ্যে এক ধরনের ছুটির আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। কারণ এবারে সাগর থেকে ফিরে ফিরবেন বাড়িতে। কাটাবেন পরিবার পরিজনের সঙ্গে ২২দিনের অবরোধকালীন সময়। কিন্তু শঙ্কা স্বজনদের জন্য কি প্রয়োজনীয় অর্থ নিয়ে ফিরতে পারবেন? এমন শঙ্কায়ও শঙ্কিত রয়েছেন অধিকাংশরা। সবাই গুনছেন লাভ-লোকসানের হিসাব।









