ইরান ও ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইস্কে কেন্দ্র করে মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপদে রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
রোববার (০১ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা জানান।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘গতকালকেই প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ফরেন মিনিস্ট্রিকে এর সাথে কানেক্ট (যুক্ত) করে জয়েন্টলি (যৌথভাবে) কাজ করে প্রথমত আমাদের দেশের নাগরিক যারা এসব দেশগুলোতে আছেন তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সহযোগিতা করা, তাদেরকে সচেতন এবং সতর্ক করা হচ্ছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য খুব বড় ধরনের ক্ষতি আমাদের দেশের নাগরিকদের হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। কুয়েতে একটি ড্রোন হামলায় আমাদের দেশের ৪ জন নাগরিক আহত হয়েছেন এবং আজকে দুবাইয়ে কাউন্সিলের ফার্স্ট সেক্রেটারির বাসার সামনে একটি মিসাইলের বোধ হয় কিছু আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে কিন্তু আমাদের ফার্স্ট সেক্রেটারি তিনি অক্ষত আছেন। কিন্তু আমাদের যে ৪ শ্রমিক তারাও তেমন গুরুতর না তবে আহত হয়েছেন।’
নুর আরও বলেন, ‘গতকাল রাতে আমাদের মধ্য প্রাচ্যগামী কয়েকটি ফ্লাইট বন্ধ হয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা আমাদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিভিল এভিয়েশনের সহযোগিতায় প্রায় সাড়ে ৮০০ লোককে আমরা রাতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, ‘আজকে কিছু কিছু জায়গায় হয়তো কিছু ফ্লাইট মুভ করতে পারে।কিন্তু আমরা সম্মানিত নাগরিকদের বলব, সময়ের চেয়ে অর্থের চেয়ে আমাদের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তখন সরকারের পক্ষ থেকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে সে পর্যন্ত তাদেরকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’
এসব দেশের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে নুর বলেন, ‘আমাদের দেশের যারা নাগরিক এই দেশগুলোতে আছেন আপাতত তারা যেটা করতে পারে, সামরিক স্থাপনা যেসকল এলাকায় আছে সেই সমস্ত এলাকাগুলো থেকে একটু দূরে থাকা, পরিচিতজনদের মাধ্যমে একটি নিরাপদ আস্থয়স্থলে থাকা। কারন, পরিচিতজনরা অনেকে জানে যে মধ্যপ্রাচ্যের এই সমস্ত এলাকাগুলোতে বোম্বিন হয়, সেগুলো এড়িয়ে একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থলে আশ্রয় নেওয়া। যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ওই সমস্ত দেশের একটা ডকুমেন্ট যেমন আইডি কার্ড,হেলথ কার্ড এগুলা সাথে রাখা এবং কিছু খাবার ও অর্থ সাথে রাখা । এবং গুরুতর কোন অসুবিধায় পড়লে আমাদের এম্বাসির সাথে যোগাযোগ করা উচিত।’
তিনি আরও জানান, ‘উত্তেজিত এমন পরিস্থিতিতে এম্বাসি এবং কনস্যুলেট গুলো ইতিমধ্যে কিছু হট লাইন নাম্বার চালু করেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেইজেও নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং দেশে ও বিদেশে যেকোনো জায়গায় বসেই তারা আপডেট জানাতে পারবে।’









