উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার এবং শিশু-কেন্দ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেট ক্লাব সদস্যদের নিয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইদিনব্যাপী অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিষয়ক দু’দিন ব্যাপী সম্মেলন শুরু হয়েছে।
রবিবার (১ মার্চ) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে “ব্রিজিং ইয়ুথ অ্যান্ড অপরচুনিটি” প্রতিপাদ্যে জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের অর্থায়নে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, রাইমস, সেইভ দ্যা চিলড্রেন বাংলাদেশের সহযোগিতায় সম্মেলনের আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা জাগো নারী।
দুইদিন ব্যাপী এ সম্মেলনের প্রথম দিনে পবিপ্রবি প্রো-ভিসি ড. হেমায়েত জাহান, জাগোনারীর রিসোর্স এন্ড কমিউনিকেশন ডিরেক্টর ডিউক ইবনে আমিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ডিনসহ জিএফএফও টিম উপস্থিত ছিলেন।
এতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও জার্মান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, শিক্ষক, মেট ক্লাব সদস্য এবং তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সম্মেলনে উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্যোগ ঝুঁকি, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, স্মার্ট সাইক্লোন শেল্টার মডেল, নারী ও শিশু সুরক্ষা কাঠামো, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কমিউনিটি পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদারের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
আয়োজকরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও অতিবৃষ্টির মতো দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এসব দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস, দ্রুত প্রস্তুতি গ্রহণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বিশেষ করে শিশু, নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় আগাম পদক্ষেপভিত্তিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে দুর্যোগ পূর্বাভাস প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রস্তাবিত মডেল, স্থানীয় সরকারের ভূমিকা, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, যুবসমাজের সম্পৃক্ততা এবং বহুমুখী দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা অংশগ্রহণকারীদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে সুপারিশ প্রদান করেন।
এ সম্মেলনের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আগাম প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে আরও টেকসই হবে বলেও জানান তারা।









