মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: কুয়াকাটা প্রকৃতির সীমাহীন সৌন্দর্যে ঘেরা পর্যটন কেন্দ্র। রয়েছে দেশ বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি। এ সৈকতের বেলাভূমে দাঁড়িয়ে সকালে সূর্যোদয় ও সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের মতো মনোরম বিরল দৃশ্য দেখার সুযোগ রয়েছে। পরিচ্ছন্ন সৈকত হিসেবে কুয়াকাটার রয়েছে আলাদা সুখ্যাতি। সৈকতের কোল ঘেঁষে দিগন্ত জুড়ে রয়েছে ম্যানগ্রোভ-ননম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। যেন সবুজের আচ্ছাদনে ঘেরা। সৈকতের দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার বেলাভূমের গোটা এলাকা পর্যটকের জন্য নিরাপদ বিচরনের সুযোগ রয়েছে। দেখতে পাবেন নৈসর্গিক দৃশ্যাবলী। রয়েছে উত্তাল সাগরে নিরাপদ গোসলের সুযোগ। বালিয়াড়িতে নেই দূর্ঘটনার ঝুঁকি। সাগরবক্ষে জেলেদের মাছ শিকারের দৃশ্য অবলোকন করা যায়। ইচ্ছে হলে জ্যান্ত মাছ কিনে খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। খালি পায়ে বেলাভূমে হাঁটবেন। সাগরের মৃদু ঢেউ পায়ের ওপরে জানান দিচ্ছে শীতল স্পর্শ। যেন মনপ্রাণ শান্ত হওয়ার অনুভূতি। অথৈ জলসীমা ছাড়া কখনো কখনো জেলেদের ট্রলার চলাচলের দৃশ্য চোখে পড়বে। প্রকৃতি যেন তাঁর মতো করেই সাজিয়ে রেখেছে কুয়াকাটাকে। যতদূর চোখ যায় অথৈ জলরাশি, সামনে নীল আকাশ। কখনো শ্বেতশুভ্র মেঘের আনাগোনা, ঝিরি ঝিরি দখিণা বাতাস, বর্ণনায় এসব অপূর্ণ থেকে যায়। এখানে আসা পর্যটকরা সুযোগ পায় কুয়াকাটা নামকরণের ঐতিহ্যবাহী কুয়া দেখার। যাদের অবদান সেই আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের বৈচিত্রময় জীবনাচার দেখতে পারবেন। জানতে পারবেন তাঁদের স্বদেশ ত্যাগের বিষাদময় কাহিনী।
১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা রাখাইন থেকে বিতাড়িত করা এই জনগোষ্ঠী কীভাবে স্বাপদ সঙ্কুলের এই জনপদকে বাসযোগ্য করেছিলেন সেসব বাস্তবতা জানার সুযোগ রয়েছে। রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী শ্রীমঙ্গল ও কুয়াকাটার অদূরে মিশ্রিপাড়ার সীমা বৌদ্ধবিহার দর্শনের সুযোগ হাতছাড়া করছেন না আগতরা। আগত পর্যটকরা ঘুরছেন লাল কাঁকড়ার বেলাভূমি গঙ্গামতি সৈকতে। ঘুরতে পারেন ঝাউবাগান, বিলুপ্ত প্রায় জাতীয় উদ্যান, লেম্বুরচর বনাঞ্চল, আন্ধারমানিক নদীর মোহনায়; এমনকি টেংড়াগিরি বনাঞ্চল দেখারও সুযোগ রয়েছে। শীতের মৌসুমে সুযোগ থাকছে কুয়াকাটার অদূরে সাগরের মাঝে জেগে ওঠা চরবিজয়কে উপভোগ করার। সেখানে লাল কাঁকড়া ও পাখির অভয়ারণ্য দেখার সুযোগ রয়েছে। যা প্রকৃতির এক ভিন্ন চেহারা। লাল কাঁকড়ার গালিচা। পাখিদের কলতানে থাকা মুখর এই চরবিজয়। মূলত জেলেদের কাছে এটি হাইরের চর হিসেবে পরিচিত। এই চরের আশপাশে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। তবে সচেতন পরিবেশ সংগঠকদের দাবি এই চরে পর্যটকের অবাধ বিচরণ বন্ধ করতে হবে। প্রকৃতি উপভোগ করতে হবে প্রকৃতিকে রক্ষা করে। নদীতে বোটে অবস্থান করে কিংবা চরের নির্দিষ্ট এরিয়ায় দাঁড়িয়ে বাইনিকুলারে এসব দৃশ্য অবলোকন করতে হবে। পাখি কিংবা লাল কাঁকড়া আবাসস্থল ধ্বংস করে নয়।
পর্যটকের এ সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ্য কুয়াকাটায় আবাস সংকটে ৯০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ছোট-বড়, মাঝারি, আধুনিক ও তারকামানের দুই শতাধিক আবাসিক হোটেল গড়ে উঠেছে। আধুনিক সুবিধা সংবলিত এসব হোটেলের পাশাপাশি অত্যাধূনিক রেস্তরা রয়েছে অসংখ্য। যোগাযোগ ব্যবস্থায় সংকট কেটে গেছে ২০২২ সালে। এখন আর ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় পৌছতে কোন ফেরি পারাপার নেই। সর্বোচ্চ ছয় ঘন্টায় সড়ক পথে পৌছতে পারেন যে কেউ। রয়েছে প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্য রাত অবধি আধুনিক অন্তত এক শ’ দূরপাল্লার বাস চলাচল। আরামদায়ক জার্নিও সুযোগ সৃষ্টি রয়েছে। লঞ্চেও বরিশাল, পটুয়াখালী ও কলাপাড়ায় এসেও কুয়াকাটায় চলে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তারপরও কেন কুয়াকাটা দেশ সৃষ্টির ৫৪ বছর পরেও স্ব-মহিমায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এমন শঙ্কার কথা উঠে এসছে। যেখানে পর্যটন ব্যবসাকে ঘিরে কর্মসংস্থান হওয়ার কথা ছিল অন্তত ৩০ হাজার মানুষের। যদিও এ পরিমাণ মানুষের পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাকে ঘিরে কর্মসংস্থান রয়েছে। তবে সেটি একটি নির্দিষ্ট মৌসুম নির্ভর। সারা বছর কেন পর্যটকের আনাগোনা থাকছে না। কী অভাব। কী অভিযোগ। কী ফারাক অনুভব করছেন এখানকার ব্যবসায়ীসহ লগ্নিকারকরা-এমন প্রশ্ন এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কেনই বা সমন্বয়ে পূর্ণতা পাচ্ছে না এখানকার ব্যবসায়ীসহ উন্নয়ন কর্মীদের- এমনসব প্রশ্ন রয়েছে। পর্যটকরা সবসময় বলে আসছেন, কুয়াকাটায় ভ্রমণে এসে একদিনে ট্যুর করলে আর দেখার কোন কিছুরই বাকি থাকে না। এটিই কি সত্যিই বাস্তববতা। না কুয়াকাটাকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। না এখানটায় আসা পর্যটকরা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। এসব গ্যাপ, অভাব, অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠকরা বিভিন্ন সময় কাজ করে যাচ্ছেন।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যটন দিবসে এসব কথা বিস্তরভাবে উঠে আসছে। যদিও কুয়াকাটাকে মেলে ধরার জন্য নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠণের শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী। কখনো তারা আশান্বিত হচ্ছেন। আবার কখনো হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছেন। যখন পর্যটকের আবাসস্থল ছিল না। ছিল না রাতে অবস্থান করার মতো কোন হোটেল কিংবা স্থাপনা তখনো রাস পূর্ণিমার উৎসবসহ বিভিন্ন সময় সমাগম ঘটতো হাজার হাজার পর্যটক দর্শনার্থীর। এখন সব সুবিধা রয়েছে তারপরও কুয়াকাটার প্রতি লগ্নিকারকরা আস্থাহীনতায় ভূগছেন কেন। এমনসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
কুয়াকাটাকে পর্যটনকেন্দ্রে উন্নীতের জন্য ১৯৯৮সালে প্রথমে পর্যটনের হলিডে হোমস ভবন নির্মাণ করা হয়। এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরের বাংলো নির্মান। পর্যটন ইয়ুথ ইন হোটেল নির্মাণ হয়। ২০১০ সালে পর্যটনের উন্নয়নে সরকার কুয়াকাটাকে পৌরসভায় উন্নীত করে। এরপরে অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ করা হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন। ব্যক্তি মালিকানায় অসংখ্য হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট গড়ে ওঠে। সরকারিভাবে ২০১৪ সাল থেকে কুয়াকাটার উন্নয়নে ব্যাপক সরকারি পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর মধ্যে কুয়াকাটাসহ গোটা লতাচাপলী ইউনিয়ন ধুলাসারের আংশিক ঘেরা বেড়িবাঁধ (৪৮ কিলোমিটার) পুনরাকৃতিকরনের কাজটি ছিল বড় ধরনের প্রত্যাশিত উন্নয়ন। পানিউন্নয়ন বোর্ডের উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন সংস্থার এই প্রকল্পে বাঁধের উন্নয়ন ছাড়াও নয়টি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে। করা হয়েছে কচ্ছপখালীর খালের পুনর্খনন কাজ। যেখানে ১৪৩ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়েছে। এই কাজ করতে গিয়ে গোটা বাঁধের বাইরে জলোচ্ছ্বাসকালীন প্রতিরোধকারী বনাঞ্চল সবুজ দেওয়াল নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। বাঁধের স্লোপে মাটির বদলে বালু দেওয়া হয়েছে। খাল খননের নামে টাকার লুটপাট করা হয়েছে। বলা হয়েছিল খালের সীমানা নির্ধারণ করে দুই পাড়ের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে যথাযথভাবে খাল পুনর্খনন করা। কিন্তু এসব শোনা হয়নি। নামকাওয়াস্তে দুই পাড়ের মাটি স্কেভেটর দিয়ে ছেঁচে খালের তলদেশ খনন না করেই জোয়ারের পানিতে পুরনো খাল ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যম কর্মীরা এ নিয়ে তৎকালীন ওই প্রকল্পের পরামর্শক মজিবুর রহমানের সঙ্গে বাগবিতন্ডা করেছেন। কিন্তু কোন কিছুতেই তাঁদের উন্নয়নের নামে লুটপাট দমানো যায়নি। ফলে ওই খালটি আর দৃষ্টিনন্দন হয়নি। এটি পর্যটককে আকৃষ্ট করার একটি মোক্ষম সুযোগ ছিল। এমনকি বেড়িবাঁধের কাজের ডিজাইন পর্যন্ত মানা হয়নি। নিম্নমানের ব্লক দেওয়া হয়েছে স্লোপে। কুয়াকাটার উন্নয়নে করা মাস্টারপ্ল্যান পর্যন্ত স্থানীয়দের জন্য খসড়া দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা হয়নি। নেওয়া হয়নি কুয়াকাটার লগ্নিকারকসহ স্থানীয়দের কোন পরামর্শ। অব্যবস্থাপনার কারণে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের বাস্তবায়নাধীন কুয়াকাটা পৌর এলাকায় পানি পিউরিফাইড প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার কুয়াকাটার হাজারো একর বেদখল হওয়া খাস জমি আজ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়নি। তারপরও কুয়াকাটাকে ঘিরে পর্যটন সম্পৃক্ত ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠেছে যেখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পর্যটকের সেবার মান নিশ্চিত হয়নি।
সাম্প্রতিককালে প্রভাষক ও গণমাধ্যমকর্মী সাইদুর রহমান সাইদ ও জহিরুল ইসলাম মিরণের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘কুয়াকাটার পথে প্রান্তরে’ প্রকাশনায় সবিস্তারের কুয়াকাটার সামগ্রিক দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়েছে। যেটি এখানে ভ্রমণে আসা পর্যটকের জন্য সহায়ক গাইড হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। ওই বইয়ের তথ্যানুসারে কুয়াকাটায় নির্মনাধীনসহ মোট ২৩১ টি আবসিক হোটেল মোটেল রয়েছে। যার মধ্যে ১১টিতে অডিটরিয়াম রয়েছে। সাতটিতে সুইমিং পুল আছে। এসব হোটেল-মোটেল পরিচালনায় রয়েছে ‘কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন’। রয়েছে পর্যটক সেবা নিশ্চিতে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট হোটেল মোটেল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন। খাবার হোটেল রয়েছে ৫৭টি। প্যাকেজ ট্যুরের জন্য ৩৭টি এজেন্সী আছে। ট্যুরগাইড ৪৯ জন। বাণিজ্যিক ক্যামেরা পারসন প্রায় ২০০ জন। ফিস ফ্রাই দোকান রয়েছে ১৬টি। সাগরে ভ্রমনের জন্য স্পিড ও ফাইবার বোট রয়েছে ২২টি। ১৬টি রয়েছে ইঞ্জিনচালিত স্পিড বোট। ৩১ সদস্য বিশিষ্ট ইজিবাইক মালিক সমিতি। শুটকির দোকান ২২টি। ১৯টি ফুসকার দোকান। মেডিসিন দোকান ২৫টি। এছাড়াও মুদি মনোহরি, ঝিনুক, স্টেশনারিসহ ভাসমান দোকানপাট রয়েছে আরো অন্তত দেড়শ ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এরপরও ছাতা বেঞ্চির ব্যবসা করছেন অন্তত ৫০ জন। ভাড়াটে মোটরসাইকেল চালক রয়েছে দেড় শতাধিক। এসব পর্যটনকেন্দ্রীক ব্যবসাকে ঘিরে কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষের।
তবে পর্যটকরা কুয়াকাটায় এসে যথাযথ সেবা পায় না-এমন এন্তার অভিযোগ রয়েছে। দালাল-মধ্যস্বত্তভোগী একটি চক্র তাঁদেরকে প্রতারিত করছে। পছন্দের হোটেল বাছাই করতে পারেন না। একটি সিন্ডকেট বাস থেকে নামলেই অটো-ভ্যান চালক দালালরা ইনিয়ে বিনিয়ে, কৌশলে নির্দিষ্ট হোটেলে নিয়ে নেয়। হোটেল ভাড়া নিয়ে হয়রাণি, খাবার হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। ভ্রমণে গেলে মোটরসাইকেল-অটোবাইকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়। আবার অযাচিতভাবে কম সৌন্দর্যপূর্ণ স্পটে নিয়ে হতাশায় ফেলে দেওয়া হয়। ছোট-খাটো প্রতারণা ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। হোটেলে আটকে সন্ত্রাসী হামলা, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটছে। বাণিজ্যিক ক্যামেরাম্যানদের প্রতারণার বিষয়টি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে ট্যুর অপারেটরস অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার নিশ্চিত করেন। সবচেয়ে সমস্যা হচ্ছে কুয়াকাটায় যারা পর্যটক নির্ভর ব্যবসা করছেন তাঁদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত আচরণটি পর্যটকের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য এটি আগত পর্যটকের কাছে বিবেচ্য বিষয়। কারণ পর্যটকরা দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ভিজিট করে প্রত্যাশিত আচরণ না পেলে কুয়াকাটা থেকে নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে ফিরে যান। এসব সংকট থেকে কুয়াকাটাকে বের করতে হবে। সেবার মান বৃদ্ধিতে সচেতন থাকার বিষয় বারংবার পর্যটকরা তাগিদ দিচ্ছেন।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি মোতালেব শরীফ জানান, বর্তমানে তারা কুয়াকাটায় আসা অন্তত ১৫ হাজার পর্যটকের আবাসন সুবিধা দিতে পারেন। তবে বিশেষ বিশেষ সময়-যেমন রাস পূর্ণিমার উৎসব, নববর্ষের সময় ও শুক্র-শনিবারে একটু সংকট সৃষ্টি হয়। তাঁদের সংগঠনভুক্ত সকল হোটেল কর্তৃপক্ষকে নিয়মকানুনের মধ্যে থেকে গেস্টকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার জন্য তাঁরা সর্বদা সচেষ্ট রয়েছেন। তবে দীর্ঘদিনেও পুরো বছর জুড়ে কুয়াকাটায় কাঙ্ক্ষিত পর্যটকের আগমন ঘটছে না। এছাড়া কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙন রক্ষায় স্থায়ী কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় কুয়াকাটার সৌন্দর্যহানি ঘটেছে। যা চিন্তার বিষয় বলে মোতালেব শরীফের মতামত।
হোটেল মোটেল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানান, এখনো কুয়াকাটার হোটেল-মোটেলসহ সব ধরনের ব্যবসা মৌসুমি ব্যবসা হয়ে আছে। কারণ পর্যটক নির্ভর পর্যটন সম্পৃক্ত এই ব্যবসাকে চাঙ্গা করতে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি প্রয়োজন। তারপরও এখন পর্যটকের সেবা নিশ্চিতে তারা সর্বদা সচেষ্ট রয়েছেন। কোন ধরনের অভিযোগ আসলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মূলত- দেশ স্বাধীনের ৫৪ বছর পরও কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসা কেন মৌসুম নির্ভরতায় আটকে আছে এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন লগ্নিকারকরা। এখানে রাজনৈতিক নেতৃত্বদানকারীদের সদিচ্ছার অভাবের কথা জানালেন মানুষ। তারপরও বরাবরের মতো এ বছরও কুয়াকাটায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করছেন। সকালে র্যালী করেছেন। পর্যটন ইয়ুথ-ইন-মোটেলের মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা হয়েছে। যেখানে পটুয়াখালীর নবাগত জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। তিনি কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি হিসেবে পর্যটনের উন্নয়নে তার সকল পদক্ষেপের কথা ব্যক্ত করেন। আশ্বস্থ করেন কুয়াকাটার উন্নয়নে যথাযথভাবে সরকারের পক্ষ থেকে কাজ করছেন। চাইলেন সকলের সহযোগিতা।









