২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের নামে পিলখানায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ ব্যক্তির হত্যার ঘটনায় দুটি মামলার বিচারকাজ ১৭ বছরেও শেষ হয়নি।
দেশের ইতিহাসে এই মামলার আসামির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আর রায়ের পৃষ্ঠার সংখ্যার দিক থেকেও এটি সবচেয়ে বড় রায়। এ ঘটনায় বাহিনীর নিজস্ব আইনে ১০ হাজার ৯৭৩ জনের বিভিন্ন ধরণের সাজা হয়। চাকরিচ্যুত করা হয় ৮ হাজার ৭৫৯জনকে।
দায়িত্ব নেয়ার পর পিলখানার হত্যা নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই কমিশন গেলো বছরের পয়লা ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাখিল করেন। এতে শেখ হাসিনা, সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদসহ অনেকের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এদিকে, বিএনপির নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা নতুন করে তদন্ত করবে সরকার।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, নতুন করে কাউকে আসামি করতে হলে ফের তদন্ত করে অভিযোগপত্র দিতে হবে। তবে কেউ নিরপরাধ হয়ে থাকলে তাদের জামিন দেয়া উচিত বলে মনে করেন চিফ প্রসিকিউটর।
এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জনকে ফাঁসির রায় দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। যাবজ্জীবন কারাদ্ণ্ড দেয়া হয় ১৬১ জনকে আর ১০ বছর করে সাজা পান ২৫৬ জন। খালাস দেয়া হয় ৫৬৮ জনকে। পরে ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর ১৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন হাইকোর্ট । উচ্চ আদালত যাবজ্জীবন দণ্ড দেয় ১৮৫ জনকে। ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা আর খালাস পায় ৪৫ জন। পরে হাইকোর্ট ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে হাইকোর্ট। হত্যা মামলাটি আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক মামলা সাড়ে ১৬ বছরেও শেষ হয়নি। বিস্ফোরক হত্যা মামলায় ১ হাজার ৩৪৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৩০০ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দুই মামলার প্রায় ২৫০ জন বিভিন্ন সময়ে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।









