গণদাবী রিপোর্ট:১৯৩৭ সালের বঙ্গীয় আইন পরিষদ নির্বাচনে পটুয়াখালী নির্বাচনী এলাকা থেকে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, খাজা নাজিমউদ্দিনকে হারিয়ে বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইনের প্রাদেশিক পরিকল্পনা কার্যকর করার লক্ষ্যে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের পথ উন্মুক্ত হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে এই প্রথম বাংলার রাজনৈতিক দলসমূহ কার্যকরভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
১৯৩৭ সালের নির্বাচনে পটুয়াখালী হয়ে ওঠে সমগ্র বাংলার নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দু। এ নির্বাচনে ঢাকার নবাব, নাজিমউদ্দিনের পক্ষে প্রচারণার উদ্দেশ্যে পটুয়াখালী উপস্থিত হন। পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশ থেকে ছাত্রদের পটুয়াখালী পাঠানো হয়। ফজলুল হকের পৈতৃক নিবাস বাউফলের বিলবিলাস ছিল বিধায় পটুয়াখালীর রাজনৈতিক পরিবেশ তাঁর অনুকূলে ছিল।
এই নির্বাচনে কৃষক-প্রজা নেতা ডা. আর. আহমেদ বলেন, বাংলার যে কোনো স্থান থেকে খাজা নাজিমউদ্দিনের সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ফজলুল হক প্রস্তুত আছেন। কৃষক-প্রজা পার্টির নেতাদের এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নাজিমউদ্দিন পটুযাখালীকে নির্বাচনী যুদ্ধের জন্য নির্ধারণ করেন। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে ফজলুল হক বলেন :
“আমি রিক্তহস্তে নির্বাচনী ইতিহাসের বিরাটতম সংগ্রামে ব্যাপৃত। আমার বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছে ঢাকার দূর্ধষ নবাব এবং নাইট উপাধিধারী খাজা নাজিমউদ্দিন। বাংলার গদিনসীন মন্ত্রী। তাদের ধনবল, জনবল অফুরন্ত ও বিপুল। খোদা না করুক আমি যদি এ দুরন্ত সংগ্রামে হেরে যাই তবে আমার সেই পরাজয় ওয়াটারলু যুদ্ধের নেপোলিয়নের পরাজয়ের চেয়ে কম লজ্জার হবে না।”
মুসলিম লীগ প্রার্থী খাজা নাজিমুদ্দিনের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো “হারিকেন” আর হক সাহেবের কৃষক প্রজা পার্টির প্রতীক ছিলো “লাঙ্গল”। নির্বাচনে ফজলুল হক বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করেন। তবে কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় মুসলিম লীগের সথে সমঝোতায় গিয়ে এ. কে. ফজলুল হক কোয়ালিশন সরকার গঠন করেন।১৯৩৭ সালের ১ এপ্রিল এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রী পরিষদ শপথ গ্রহণ করেন। বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বরিশালের এই সিংহ পুরুষ।
ফজলুল হকের মতো বাস্তবে বাংলার আর কোন রাজনৈতিক নেতা এত জোরালো ভাবে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের কথা জনসম্মুখে উপস্থাপন করেন নি।তিনি তার বক্তব্যে কৃষকের ডাল ভাতের ব্যবস্থা,খাজনা কমানো,স্বরাজ প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরতেন।তিনি ১৮৭৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬২ সালে মৃত্যু বরণ করেন।ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের এই প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তথ্যসূত্র:
বরিশাল বিভাগের ইতিহাস, সিরাজ উদ্দীন আহমেদ (প্রথম খণ্ড, দ্বিতীয় সংস্করণ)
ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ জার্নাল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (পঞ্চদশ সংখ্যা ১৪১৪)









