চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার চরফ্যাশনে খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক ইলিয়াসের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীর জমিতে বাউন্ডারির দেয়াল ও বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত ইলিয়াস ঢাকা কেরানিগঞ্জ উপজেলা খাদ্য অফিসে উপ-পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। তিনি চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত নুর ইসলামের দ্বিতীয় ছেলে।
অভিযোগকারী একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রতিবেশী বৃদ্ধ দীল মোহাম্মদ রত্তন (৭০)।
শনিবার(১০ জানুয়ারী) দুপুরে অভিযোগে দীল মোহাম্মদ রত্তন জানান, ওমরপুর মৌজা, জেল নং ৬৩, খতিয়ান নং ২৮৭, এসএ ২৯৫২ ও ২৯৬৩ নং দাগের ৩৪ শতাংশ জমি ৫০ বছর ধরে গাছগাছালি, পুকুর ও ঘর নির্মাণ করে ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে খাদ্য উপপরিদর্শক ইলিয়াস প্রভাব খাটিয়ে ওই জমিতে বাউন্ডারির দেয়াল ও তিনতলা ভবন নির্মাণ করেন। বাধা দিলে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
তিনি আরও জানান, আমি নিরুপায় হয়ে থানা ও আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত জমিতে নির্মাণ কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আধারে দেয়াল ও ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আমি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার দাবি করছি।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা বৃদ্ধ আবু তাহের ভূঁইয়া ও আবুল কালাম জানান, ইলিয়াসের নেতৃত্বে সম্প্রতি প্রতিবেশী দীল মোহাম্মদ রত্তনের জমিতে বাউন্ডারির দেয়াল ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কেউ বাধা দিলে কারো কথাই সে শুনেছেন না তিনি।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি সূত্র জানা যায়, ইলিয়াসের পরিবার ছিল সাধারণ। তার বাবা নুর ইসলাম ছিলেন কৃষক। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব নেন বড় ভাই সিরাজ। জীবিকার তাগিদে ইলিয়াস বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে পরিবার চালাতেন। প্রায় ছয় বছর আগে নন-ক্যাডারে খাদ্য অধিদপ্তরে যোগদানের পরই ইলিয়াসের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। অল্প সময়ে তিনি ঢাকায় ও গ্রামের বাড়িতে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি এবং বহুতল ভবন তৈরি করেন। এর ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তারা খাদ্য উপ-পরিদর্শক ইলিয়াসের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও সম্পত্তির উৎস তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত খাদ্য উপপরিদর্শক ইলিয়াসের বাড়িতে গেলে তার বড় ভাই সিরাজ জানান, আমাদের পরিবার কষ্টের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে। ছোট ভাই ইলিয়াসকে নানা বাড়ির সম্পদ বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা দিয়ে চাকরি নিয়ে দিয়েছি। সে ঢাকায় চাকরি করছেন। আমরা কারো জমি দখল করে ভবন ও দেয়াল নির্মাণ করছি না।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ইলিয়াসকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তিনি বলেন, আমি সরকারি বিধি-বিধান মেনে চাকরি করছি এবং আমার সব আয় বৈধ। বাড়িতে যে ভবনটি করেছি, সেটি নানা বাড়ির সম্পদ বিক্রি করে করেছি। জমি নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ রয়েছে, কিন্তু তার জায়গায় দেয়াল বা ভবন নির্মাণ করিনি। এছাড়া আমার সম্পদ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
চরফ্যাশন থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, লিখিত অভিযোগ বা আদালতের নির্দেশনা পেলে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা কেরানিগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ইলিয়াস দেড় মাস আগে আমাদের অফিসে যোগদান করেছেন। বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লোকমান হোসেন বলেন, জমি সংক্রান্ত বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব দেখার দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা স্থানীয় সালিশ যারা করেন তাদের। ইউএনওর দেখার বিষয় না।









