বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেছেন, “সংগঠনের কোনো নেতাকে বহিষ্কার করা কিংবা কমিটি ভেঙে দেওয়া হলেও স্বসম্মান বজায় রেখেই আমরা নির্বাচন পরিচালনা করব, ইনশাআল্লাহ।”
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের সমঝোতার ভিত্তিতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এ মনোনয়ন ঘোষণার পর দীর্ঘদিনের বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হননি। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামলে দশমিনা-গলাচিপা অঞ্চলের বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা, মামলা ও কারাবরণের শিকার হলেও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন তাদের পাশে থেকে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এ কারণে বিএনপির মনোনয়ন তিনি পাবেন এমন প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মনোনয়ন দাখিলের আগেই তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে গত ৩০ ডিসেম্বর এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বিএনপি তাকে সাধারণ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়।
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর থেকে হাসান মামুন একাধিকবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তার সমর্থক ও নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছেন। বুধবারের স্ট্যাটাসেও তিনি একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে, গত ৩ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে দশমিনা উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।









