উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী। লবণাক্ততা, জোয়ার-ভাটা, জলাবদ্ধতা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ—এই চ্যালেঞ্জের মাঝেই বছরের পর বছর কৃষকরা লড়ে যাচ্ছেন ফসল বাঁচানোর সংগ্রামে। এমন বাস্তবতায় কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার যেন সময়ের দাবি। সেই চাহিদাকে সামনে রেখেই পটুয়াখালীর কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), স্যাটেলাইট স্টেশন, পটুয়াখালী।
নতুন ৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওতায় ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার পশুরীবুনিয়া প্রযুক্তি গ্রামে ৫ একর জমিতে ট্রের মাধ্যমে ম্যাট টাইপ চারা উৎপাদন, ব্রি উদ্ভাবিত বীজ বপন যন্ত্র এবং রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে যান্ত্রিকভাবে ধান রোপণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), স্যাটেলাইট স্টেশন, পটুয়াখালী এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মুহম্মদ আশিক ইকবাল খান। মাঠ পর্যায়ে এসব প্রযুক্তির প্রায়োগিক প্রদর্শনী দেখে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় কৃষকরা।
একসময় যেখানে বীজতলায় চারা তৈরি করতে দীর্ঘ সময়, বেশি বীজ ও অতিরিক্ত শ্রমের প্রয়োজন হতো, সেখানে এখন ট্রেতে সমান ও স্বাস্থ্যবান চারা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। যান্ত্রিক ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে অল্প সময়ে জমিতে চারা রোপণ হওয়ায় শ্রমিক সংকটের সমস্যাও অনেকটাই কাটছে। এতে করে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমছে, বাড়ছে সময়ের সাশ্রয়।
সম্প্রতি আয়োজিত কৃষক সমাবেশে কৃষকদের হাতে-কলমে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানো হয়। পাশাপাশি কৃষকদের মাঝে একটি বীজ বপন যন্ত্র ও চারা উৎপাদনের জন্য ট্রে বিতরণ করা হয়। অনেক কৃষক জানান, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা নির্ধারিত সময়ে রোপণ সম্পন্ন করতে পারছেন, যা ফলন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ব্রি’র বিজ্ঞানী ড মুহম্মদ আশিক ইকবাল খান এর মতে, উপকূলীয় এলাকার প্রতিকূল পরিবেশে টেকসই ধান উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। আধুনিক যন্ত্র ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে কৃষকরা শুধু উৎপাদন বাড়াবেন না, বরং ভবিষ্যৎ জলবায়ু ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও অর্জন করবেন।
পটুয়াখালীর মাঠে মাঠে যখন যান্ত্রিক ট্রান্সপ্লান্টারের শব্দ শোনা যায়, তখন তা শুধু চারা রোপণের শব্দ নয়—এ যেন উপকূলীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা। কৃষকের হাতে প্রযুক্তি পৌঁছে দিয়ে টেকসই কৃষির পথে এগিয়ে যাওয়ার এই উদ্যোগ পটুয়াখালীর কৃষিতে তৈরি করছে এক নতুন দিগন্ত।









