পটুয়াখালীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় খন্দকার নাহিদ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে প্রধান অভিযুক্ত মোঃ মাহিন (২৩), মোঃ নাহিদ (২৩), মোঃ তুষার আহমেদ হৃদয় ওরফে ছোটন (২২) ও সাইফুল ইসলাম হীরা (২৩) নামের চার আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরন করলে নিহতের মা বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা পাঁচ-সাত জনের নামে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার গ্রেপ্তার ছাড়া অন্যান্য আসামীরা হলেন স্বাধীন (২৩), নাজমুল (২২), ওমি (২৩), দিগন্ত (২২), ইমন (২৩) ও শাওন।
এর আগে গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী পৌর শহরের ৮ নং ওয়ার্ডের পানির ট্যাংকের বিপরীতে হোয়াইট হাউজ নামক নির্মানাধীন ভবনের নিচ তলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানাযায়, গত দুই মাস আগে ঢাকায় ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যায়নরত নিহতের ছোট ভাই খন্দকার ফাহিম এর বন্ধুর সাথে একই ইউনিভার্সিটির ছাত্র মোহাম্মদ মবিনের তুচ্ছ বিষয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটিতে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হলেও সেই ঘটনার রেশ ধরে গত মঙ্গলবার ফাহিম ও নাহিদকে মারধর করে অভিযুক্তরা। পরবর্তিতে বুধবার বিকেলে খন্দকার নাহিদের কর্মস্থলে গিয়ে ফের হামলা করে অভিযুক্তরা নাহিদকে ক্রিকেটের ব্যাট দিয়ে বেধরক মারধর করে। পরে আশংকাজনক অবস্থায় নাহিদকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রেফার করে। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার নাহিদের মৃত্যু হয়।
পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোঃ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, মারামারির ঘটনাটি ঘটার পরে আমরা জানতে পেরে বৃহস্পতিবার রাতে চার জন আসামিকে আটক করি। এ ঘটনার সাথে জড়িত অনন্যা আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।









