কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কার্ডধারী তালিকাভুক্ত অন্তত আট হাজার জেলের নাম বাতিল হয়ে যাচ্ছে। পুরনো তালিকাভুক্ত ১৮ হাজার ৩০৫ জনের মধ্য থেকে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া এই আট হাজার জেলে কার্ড বাতিল করার প্রক্রিয়া চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তালিকাভুক্ত জেলেদের মধ্য থেকে পেশায় পরিবর্তন, মারা গেছেন, এলাকা ত্যাগ করেছেন ও প্রকৃত জেলে নয় এমন কার্ডধারীর নাম বাতিল করার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করা হয়েছে।
তবে নতুন করে তালিকায় অন্তভুর্ক্ত হওয়ার জন্য আরো প্রায় ১১ হাজার নতুন আবেদন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। খবর নির্ভরযোগ্য সূত্রের। ফলে কার্ড পাওয়া থেকে বঞ্চিত জেলেরা এবারে তালিকার আওতায় আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে কবে নাগাদ এই তালিকা হালনাগাদের কাজ শেষ হচ্ছে তা নিশ্চিত কওে জানা য়ায়নি।
তালিকাভুক্ত না হওয়ায় জেলে কার্ড না থাকায় সাগর-নদীতে মাছ ধরা প্রকৃত হাজারো জেলেরা বছরের পর বছর মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালীন সময় সরকারের বিশেষ সহায়তা ভিজিএফএর খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এনিয়ে প্রকৃত জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। তারা মানববন্ধন, প্রতিবাদসহ বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন করেছেন।
এর প্রেক্ষিতে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির উদ্যোগে নদী কিংবা সাগরে মাছ আহরণকারী প্রকৃত জেলেদের একটি তালিকা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে আবেদন করা নতুন ১১ হাজারের মধ্যেও অসংখ্য ভুয়া নাম রয়েছে বলে দাবি করেছেন পেশাদার জেলেরা। প্রকৃত জেলেদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণ ও ভুয়া নাম বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন সময় জেলেরা মানববন্ধন করেছেন। লিখিত অভিযোগ করেছেন। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞাকালীন জেলে চাল বিতরণকালে সমাবেশও করেছেন।
কুয়াকাটার জেলে হানিফ মাঝি জানান, যাছাই-বাছাই শেষে তালিকা ফাইনাল করার আগে একটি খসড়া কপি প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সামনে টানিয়ে দেওয়া দরকার। তাহলে যদি কোন রদবদল থাকে তা স্থানীয় জেলেরা জানাতে পারবেন।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, তালিকা যাচাই-বাছাই করে সঠিক জেলেদের নাম সংবলিত একটি তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। যেখানে পুরনো তালিকা থেকে অন্তত আট হাজার নাম বাদ পড়বে বলে মনে করছেন এই কর্মকর্তা। পেশায় পরিবর্তন, মারা গেছেন ও এলাকা ত্যাগ করেছেন ও প্রকৃত জেলে নয় এমন নামগুলো বাদ পড়তে যাচ্ছে। এছাড়া নতুন তালিকায় অন্তর্ভূক্তির জন্য প্রায় ১১ হাজার আবেদন নতুন পাওয়া গেছে। প্রকৃত জেলেদের নামে জেলে আইডি কার্ড হয় এই কাজটি তারা করছেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানান, সাগর নদীতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারের দেওয়া বিশেষ খাদ্য সহায়তার চাল প্রকৃত জেলেদের বিতরণ নিশ্চিতে একটি সঠিক তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।









