স্টাফ রিপোর্টার: দেশের সরকারি ও স্বনামধন্য বেসরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কয়েক বছর ধরে চালু রয়েছে লটারি পদ্ধতি। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এন্ট্রি বা প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনের বিপরীতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচনপ্রক্রিয়া ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভর্তিকে স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও সমান সুযোগের আওতায় আনতেই এই পদ্ধতি চালু করা হলেও বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর—সে প্রশ্ন উঠছে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। অনলাইনে আবেদন গ্রহণের পর নির্ধারিত দিনে কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লটারি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কোনো ধরনের মানবিক হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
লটারি পদ্ধতির ফলে অতীতে প্রচলিত ভর্তি বাণিজ্য, তদবির ও অনিয়ম অনেকাংশে কমেছে বলে মনে করেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। আগে ভালো স্কুলে ভর্তি করাতে অভিভাবকদের দালাল, কোচিং সেন্টার কিংবা প্রভাবশালী মহলের দ্বারস্থ হতে হতো। এখন সেই চাপ অনেকটাই কমেছে বলে দাবি তাদের।
তবে লটারি পদ্ধতির বিরোধিতাও কম নয়। অনেক অভিভাবকের অভিযোগ, মেধা ও যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই শিক্ষার্থী নির্বাচন করায় পড়াশোনায় দুর্বল শিক্ষার্থীও ভালো স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
প্রাথমিক পর্যায়ে লটারি পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হলেও মাধ্যমিক স্তরে ধাপে ধাপে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন যুক্ত করা উচিত বলে নেটিজেনরা মতামত দিয়েছে।
স্কুল ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি ডিজিটাল ভাবে করা হলেও বাছাইয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সময়ের সঙ্গে এই ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও ভারসাম্যপূর্ণ করার দাবি এখন শিক্ষাঙ্গনে জোরালো হয়ে উঠছে।









