বাউফল প্রতিনিধি: বাউফল উপজেলার ১নং কাছিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মাহামুদুল হাসান হিরনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্যরা।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ লিখিত আবেদন করা হয়।
আবেদনে ইউপি সদস্যরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান হিরন ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভা ও নির্বাচিত সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করে আসছেন। এতে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিষদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নিয়মিত অফিস সময়ে ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিত থেকে তিনি ব্যক্তিগত ব্যবসা ও কাজে অধিক সময় ব্যয় করছেন। ফলে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
ইউপি সদস্যদের লিখিত অভিযোগে ভিজিডি কার্ড প্রদানের নামে অসহায় নারী ও দরিদ্র জনগণের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ, জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদান ও সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব খাতের অর্থের সঠিক হিসাব প্রদান না করা এবং আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় না রাখার অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত মাসিক সভা আহ্বান না করে পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সকল বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নির্বাচিত ইউপি সদস্যদের অবমূল্যায়ন ও মতামত উপেক্ষা করার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইউপি সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, সদস্যদের না জানিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কমিটিতে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
আবেদনে বলা হয়, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ইউনিয়নবাসীর মধ্যে তীব্র জনদুর্ভোগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার স্বার্থে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান হিরনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে তাকে দ্রুত কাছিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অপসারণসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জোর দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহ আহমদ বলেন, ‘ইপি সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’









