কুয়াকাটা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মহিপুর থানাধীন খাপড়াভাংগা এলাকায় জমি ও মাছের ঘের দখলের উদ্দেশ্যে এক বিধবা নারী ও তার কন্যার ওপর পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে।
ভুক্তভোগী মোসাঃ মনিরা বেগম (৬০) জানান, তার স্বামী মরহুম নকু মিয়া ওরফে জাহাঙ্গীর ভূইয়া জীবদ্দশায় বৈধ দলিলমূলে হরেন্দ্রপুর মৌজায় মোট ৬.৭৯ একর জমি ক্রয় করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ও তার দুই কন্যা আইনানুগ ওয়ারিশ হিসেবে উক্ত জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। বি.এস জরিপসহ সকল রেকর্ড তাদের নামে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩.০৪ একর জমিতে মাছের ঘের করে দীর্ঘদিন ধরে তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিবেশী মোঃ রহিম খাঁ, জাহাঙ্গীর ফরাজী, জাকারিয়া ও জাকিয়া বেগমসহ তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে জমি ও মাছের ঘের জোরপূর্বক দখলের ষড়যন্ত্র করে আসছে। তারা এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
মনিরা বেগমের দাবি, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মাছ ধরতে গেলে অভিযুক্তরা বাধা দেয় এবং তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মনিরা বেগম ও তার কন্যা গুলনাহার খুশবু বাড়ি থেকে বের হলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ বেআইনি জনতাবধ্যে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দুজনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, তার কন্যা একজন ব্রেইন টিউমারের অপারেশনকৃত রোগী হওয়া সত্ত্বেও হামলাকারীরা তার মাথার অপারেশনের স্থানে আঘাত করে এবং একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
হামলার সময় চাঁদার নামে ১ ভরি স্বর্ণের চেইন, ৮ আনা স্বর্ণের ঝুমকা ও একটি ভিভো মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে না এলে প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল বলেও জানান তিনি। পরে আহতদের কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কন্যার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানে তিনি কয়েকদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টায় ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগী পরিবার আইনের আশ্রয় নেয়। বর্তমানে মামলাটি কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, মামলা নাম্বার ৮৫৮/২৫।
এ ব্যাপারে রহিম খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এসব ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, মনিরা বেগম গংদের মধ্যে আমাদের জমি রয়েছে বিধায় এই সমস্যার সৃষ্টি।
এদিকে অভিযুক্তরা মামলা থেকে রেহাই পেতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে একটি মানববন্ধন করে অপপ্রচার চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, যার সংবাদ সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন মনিরা বেগম।
তিনি প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিজস্ব জমি ও মাছের ঘের শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলের নিশ্চয়তা দাবি করেছেন। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি।









