আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: লাগাতার কর্মবিরতি ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের পর এবার বরগুনার আমতলী উপজেলার ১৫২টি বিদ্যালয়ে কমপ্লিট শাটডাউন পালিত হয়েছে।
এ কারনে বুধবার সকালে কোন বিদ্যালয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে বিকেলে প্রধান শিক্ষক, নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় সকল স্কুলে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দাবী করেন।
কোমলমতি শিক্ষাথর্ীদের পরবতর্ী পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য সকল বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে আহবায়ক করে অভিভাবকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, আমতলী উপজেলায় ১৫২টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসকল বিদ্যালয়ে ৯০৫ জন সহকারী শিক্ষক রয়েছে। সকল শিক্ষকরা তাদের দাবী আদায়ের জন্য বুধবার সকাল ও বিকেলে অনুষ্ঠিত কোন পরীক্ষায় অংশগ্রহন না করে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। বুধবার সকাল ১১ টায় আমতলী একে হাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটে তালা ঝুলতে দেখে অভিভাবকরা ক্ষুদ্ধ হয়ে তালা ভেঙ্গে ফেলেন। সেখানে শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের সহায়তায় পরীক্ষা গ্রহন করেন। একই অবস্থা গাজীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েও।
বুধবার সকালে উপজেলার হলদিয়া, গুরুদল, চাওড়া পাতাকাটা, আমতলী বন্দর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, কোন সহকারী শিক্ষককরা পরীক্ষা গ্রহনে অংশগ্রহন করেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী শিক্ষক বলেন, আমাদের দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা পরীক্ষার কার্যক্রমে অংশগ্রহন করবো না।
আমতলী একে হাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আন্দোলনে থাকায় পরীক্ষায় কোন সহকারী শিক্ষকরা অংশগ্রহন না করে বিদ্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে অভিভাবকরা ক্ষুদ্ধ হয়ে তালা ভেঙ্গে ফেলে।
আমতলী উপজেলান প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল আলম জানান, ৯৭টি বিদ্যালয়ে সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা হয়নি। তবে বিকেলে সকল স্কুলে প্রধান শিক্ষক, নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী ও অীভভাবকদের সহায়তায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, সকল বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, অভিভাবকদের সহযোগিতায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।









