সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডসহ ৩ দফা দাবির দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে “প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ”।
স্মারকলিপিতে জানানো হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষকদের আপাতত ১১তম গ্রেড প্রদান, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা দূরীকরণ এবং প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির বিষয়টি ১০ নভেম্বরের সরকারি ঘোষণায় উল্লেখ থাকলেও এ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার হয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
স্মারকলিপিতে ঢাকার শাহবাগে শান্তিপূর্ণ কলম সমর্পণ কর্মসূচিতে পুলিশের অতর্কিত হামলায় বহু শিক্ষক গুরুতর আহত হওয়া এবং চাঁদপুরের মতলব উত্তরের সহকারী শিক্ষক ফাতেমা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনাকে মানবিক বিবেচনায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে চিকিৎসা সহায়তা এবং নিহত শিক্ষিকার পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি তোলা হয়।
সহকারী শিক্ষকরা উল্লেখ করেন, স্নাতক ডিগ্রিধারী হয়েও তারা দীর্ঘদিন ধরে ১৩তম গ্রেডে সীমিত বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন। সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ১০ম গ্রেডে সুবিধা ভোগ করছেন, যা স্পষ্ট বৈষম্য তৈরি করছে। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এই গ্রেড বৈষম্য দ্রুত দূর করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়।
দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের প্রতিনিধিদল স্মারকলিপিতে সহকারী শিক্ষকদের ৩ দফা দাবি—গ্রেড উন্নয়ন, উচ্চতর গ্রেড জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি—অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় মো. নূরুল ইসলাম, মো. আমিনুর রহমান, শামিম আহম্মেদ, মো. মনিরুজ্জামান ফরহাদ, মো. মেহেদী হাসানসহ পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।









