বাউফল প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে জুলাই শহীদ স্মৃতি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটায় উপজেলা পাবলিক মাঠে বাউফল উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ আয়োজনকে ঘিরে হাজারো মানুষের ঢল নামে। মাঠের গ্যালারি, পাশের সড়ক ও খোলা প্রান্তজুড়ে উৎসুক জনতার আনাগোনা সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাউফল ফাউন্ডেশন ও বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান এবং পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ঢাকার মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা কায়সার হামিদ, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির পরিচালক খালেদ মাসুদ পাইলট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। অনুষ্ঠানে গত বছরের জুলাই আন্দোলনে বাউফলে শহীদ হওয়া সাত পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেয় বাউফল উপজেলা একাদশ ও বাউফল পৌরসভা একাদশ। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। শেষ পর্যন্ত বাউফল উপজেলা একাদশ ৫–৪ গোলে পৌরসভা একাদশকে হারিয়ে বিজয়ী হয়। বিজয়ী দলকে ৫০ হাজার টাকা এবং রানার্সআপ দলকে ৩০ হাজার টাকার প্রাইজমানি প্রদান করা হয়। দেশি–বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে পুরো মাঠজুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যায় স্থানীয় ও জাতীয় মানের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, “খেলার মূল চেতনা হলো সৌজন্যবোধ। রেফারির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া এবং পরস্পরের প্রতি সম্মান রেখে খেলতে জানতে হবে। শক্তির ব্যবহার নয়, কৌশলই খেলায় জয় এনে দেয়। আগামী রাজনীতিতেও আমরা কৌশল ও প্রতিভার বিকাশের মাধ্যমে টেকসই রাজনৈতিক সংস্কৃতি উপস্থাপন করতে চাই।”
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ঘাটতির অভিযোগ তুলে বলেন, “আমাদের পোস্টার–ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে, কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে, ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি বাউফলেও আমাদের কর্মীদের আহত করা হয়েছে, মা-বোনদের অপমান করা হয়েছে। ইসলামের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে যারা কাজ করে—তাদের বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।”
নিরপেক্ষ প্রশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। ঈদের উৎসবে ভোটের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে—তা বাস্তবায়ন করতে হবে।”
গতকালের রাজনৈতিক হামলার ঘটনাও তিনি নিন্দা করেন। মাসুদ বলেন, “আমরা প্রকাশ্যেই দেখেছি অস্ত্র হাতে হামলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় আমিরও এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ থাকে, দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার, তদন্ত ও বিচার সম্ভব হবে।”
নির্বাচনী দায়িত্ব বণ্টনে লটারি পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। “লটারি প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হলে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব বণ্টন সম্ভব,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কিন্তু আমরা শুনছি কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে এ প্রক্রিয়া পরিবর্তন করা হচ্ছে। স্বচ্ছ লটারির মাধ্যমেই প্রকৃত নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হতে পারে।”
প্রীতি ম্যাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সারাদিনজুড়েই বাউফলে ছিল উৎসবের আমেজ। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।









