জুলাই হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে ‘বাণিজ্যিক কার্যক্রমে’ জড়িত থাকার অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা বিএনপির পিতা ও পুত্রের নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা বিএনপি।
গত ২১ অক্টোবর জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিষয়টি দীর্ঘদিন দলীয় নেতাকর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রকাশিত থাকলেও ২৮ নভেম্বর প্রথম প্রকাশ্যে আসে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন জানান, দলীয় শৃঙ্খলা, নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় সদর উপজেলা বিএনপি সদস্য ও মাদারবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হানিফকে তার পদ থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার ছেলে, সদর উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মশিউর রহমানকে তার পদসহ সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের জুলাই শহিদ রায়হানের মৃত্যুর পর মামলা দায়ের ও আসামিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণসহ একাধিক বিষয়ে আবু হানিফ ও তার ছেলে মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জেলা বিএনপি তদন্ত করে দুজনের বিরুদ্ধেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
দলীয় সূত্র জানায়, বাবা ছেলে এই দুজনের বিরুদ্ধেই ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর তারা লিখিত জবাব দিলেও জেলা বিএনপি সেটিকে ‘সন্তোষজনক’ মনে করেনি। পরে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।









