মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাখাইন সম্প্রদায়ের একটি বসতবাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২৬ নভেম্বর) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কলাপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বসতঘরের সামনের বারান্দাটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। রান্নাঘরের কোনো চিহ্ন নেই বললেই চলে, কেবল ভাঙা অংশ পড়ে আছে। বসতঘরের কয়েকটি খুঁটি কেটে দেওয়া হয়েছে। বসতঘরটি একপাশে ঝুঁকে আছে । তবে স্থানীয়দের কেউই আগুনের সূত্রপাত নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নন।
এ ঘটনায় মংচাওয়েন (৪২) রাখাইন বাদী হয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে রুবেল সিকদারসহ কয়েকজনের নাম অভিযোগে উল্লেখ করেন।
থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রুবেল সিকদার বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় শতবর্ষী রাখাইন নারী সেমাচিংয়ের সাড়ে ১২ একর জমি জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে দলিল করে নেন। এতে কোম্পানীপাড়ার এক মাতবর সহযোগিতা করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মংচাওয়েন অভিযোগে বলেন রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অজ্ঞাত লোকজন বসতঘরে আগুন দেয়। আশপাশের লোকজন আগুন দেখে আমাকে খবর দেয়। আমাদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রুবেল সিকদার ও তার সহযোগীরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে।
মংচাওয়েন রাখাইন আরও বলেন জালিয়াতির মাধ্যমে আমাদের জমি দখলের পাঁয়তারা চলছে। পরিকল্পনা করেই আমাদের ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই আমরা। এর আগেও এই বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তার অভিযোগ।
ভুক্তভোগী মায়া রাখাইন বলেন, রুবেল সিকদার আগের সরকার আমলে আমাদের উপর অনেক নির্যাতন করেছে। আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তিনি একজন ভূমিদস্যু। তার নামে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি ।
জমির নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে এসএ ১৯৫ নং খতিয়ানের ২৬১৭, ২৬১৮, ১৯, ২৪, ২৫, ২৭১৯ ও বিএস ১০৮৭ খতিয়ানের ৪২১ল৫–২২, ৯৬, ৪৩০৩ দাগসহ একাধিক দাগে সেমচিং গং মালিক হিসেবে স্বীকৃত।
ভুক্তোভোগী সেমচিং রাখাইন জানান, রাতে তাদের ঘরে আগুন দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে রুবেল সিকদার। সংখ্যালঘু হওয়ায় বারবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তিনি ন্যায়বিচার চেয়েছেন।
অভিযুক্ত রুবেল সিকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কারো জমি দখল করিনি। আগুনের ঘটনাটি আমিও সকালে শুনেছি। এর বেশি কিছু জানি না।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল ইসলাম জানান,বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পেছনে কে বা কারা জড়িত তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









