মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ইটবাড়িয়া গ্রামে পায়রা বন্দরের রাস্তা নির্মাণে উচ্ছেদ হতে যাওয়া জিয়া কলোনির ক্ষতিগ্রস্ত ১৩৬ পরিবারের যথাযথ পুনর্বাসন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়রানির প্রতিবাদে আজ শনিবার দুপুরে মানববন্ধন সমাবেশ করা হয়েছে। কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের আহ্বায়ক মনোয়ারা বেগম, জিয়া কলোনির বাসীন্দা ফোরকান হাওলাদার, সালেহা বেগম, আল-আমীন, জসিম উদ্দিন, রুমা বেগম,লাইলি বেগম প্রমুখ। এসময় কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু, সাধারণ সম্পাদক অমল মুখার্জি, পরিবেশ সংগঠক নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী ফোরকান হাওলাদার জানান, পায়রাবন্দর উন্নয়নে হাজার হাজার পরিবার কে পুনর্বাসন করা হয়েছে। কিন্তু তাদের ১৩৬ পরিবারের পুনর্বাসন নিয়ে কোন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়নি। আন্ধারমানিক নদী ভরাট করে কোন ধরনের স্থাপনা না করেই সেখানে চলে যাওয়ার জন্য এখন সকলকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব পরিবারের দাবি পায়রা বন্দরের টার্মিনালের পণ্য খালাশসহ সকল ধরনের যোগাযোগ করতে সিক্সলেন সেতু ও আলাদা সিক্সলেন সড়ক নির্মাণ কাজ শেষের দিকে। অথচ এই বেড়িবাঁধটি এতো চওড়া কেন করা হবে তা তারা বুঝতে পারছেন না। এই বাঁধের ঢালে তাদের ১৩৬ পরিবার কে প্রায় ২২ বছর আগে বসবাস করতে দেওয়া হয়। যার নাম জিয়া কলোনি। এই রাস্তাটি মাত্র ছয় কিলোমিটার লম্বা। এই রাস্তার পাশ দিয়ে অনেক চওড়া আরো একটি রাস্তা রয়েছে। এলজিইডির করা ওই রাস্তা বিগত দিনে পায়রা বন্দর ব্যবহার করেছে। ওই প্রশস্ত রাস্তার পরেও এই বেড়িবাঁধ টি যতটুকু চওড়া আছে অতটুকু বরাবর মেরামত করলেই কোন পরিবার কে উচ্ছেদ করার প্রয়োজন নেই।
এসব পরিবারের দাবি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পায়রা বন্দরের কতিপয় কর্মকর্তার কাছে এটি একটি খেয়ালখুশির প্রকল্প। যেটিকে এদের ভাষায় অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প। এটিতে ২৫-৩০ কোটি টকা ব্যয়- বরাদ্দ রয়েছে। যা ভাগবাটোয়ারা করতে এই রাস্তার পাশ থেকে তাদের উচ্ছেদ করতে মরিয়া হয়ে গেছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী ঠিকাদার ও বন্দরের কতিপয় কর্মকর্তা। তারা সরকারের নৌমন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এছাড়া রাস্তা করতে গিয়ে উচ্ছেদের আগে জিয়া কলোনির ১৩৬ পরিবারের দ্রুত যথাযথ পুনর্বাসন দাবি করেন। পরিবারের অনেক নারী পুরুষ এসময় কান্না জুড়ে দেন। এসব পরিবারের শিশুরা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের প্লাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয়।









