বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ার পর দু’দফায় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হিন্দু গৃহবধূ বাড়ি ফিরেছেন।
শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরের পর তিনি বাড়ি ফিরে গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান। ওই সময় পরিবারটির নিরাপত্তায় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের অবগত করেন।
উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাড়িতে স্বামী সন্তানের অনুপস্থিতর সুযোগে প্রথম দফায় গত ২৩ অক্টোবর বিকেলে ধর্ষণের শিকার হন ওই নারী। স্থানীয় দুই দুর্বৃত্ত সেদিন তাকে ধর্ষণ করে। একই কায়দায় গত ২৯ নভেম্বর দুপুরে ওই নারীর ওপর দ্বিতীয় দফায় তারা নির্যাতন চালায়। সেদিন তার ওপর চালানো নিপীড়নের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারন করে আরেকজন। কাউকে জানালে বা মামলা করার চেষ্টা করলে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।
দু’দফায় ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ আসামীদের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে তার ভাইয়ের বাসায় আশ্রয় নেয়। পরে গত ১লা নভেম্বর ভূক্তভোগী ওই ভিকটিম নারী একই গ্রামের সাইফুল ইসলাম হাওলাদার (২৫), মো. ইমরান হাওলাদার (৩০) ও ইমরানের ভাই ইমরাজ হাওলাদারের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় মামলা করেন। সেই রাতেই পুলিশ দুই নম্বর আসামি ইমরানকে গ্রেপ্তার করে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষাও করা হয়। এরপর গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হয় তিন নম্বর আসামি ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণকারী ইমরাজকে।
গত বুধবার (৫ নভেম্বর) আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে ইমরান মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দিতে থাকে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী ভিকটিম নারী তার ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছিলেন তার স্বামী ও দুই ছেলে।
শনিবার বিকেলে পরিবারটির খোঁজ নিতে যান আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খান, ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান, বরগুনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডঃ সুশান্ত কুমার বেপারী, উপজেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডঃ হরিহর চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র বসু প্রমুখ।
ওই সময় তারা গ্রামবাসী ও ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, ওসিকে নিয়ে নির্যাতিত পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। তাদের পরিবারের ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের নিরাপত্তায় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই নারীর পরিবারটির নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি রাখা হয়েছে।
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. আল মামুন সিকদার বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।









