মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আটটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ১১ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। শুধুমাত্র চিকিৎসা পরামর্শ নিয়ে ফিরছেন খালি হাতে। এছাড়া অধিকাংশ ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে। দেওয়াল, ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। কোন কোন কেন্দ্রে বর্ষায় হাটু সমান পানি পেরিয়ে গর্ভবতী মায়েরা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সপ্তাহের দুই-চারদিন ছাড়া পরামর্শ নেওয়ারও সুযোগ থাকছে না। শুধুমাত্র পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কিত পরামর্শ ছাড়া আর কিছুই মেলে না এসব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে।
লালুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার স্বাস্থ্যসেবার চালচিত্র। ভবনটির ছাদ জরাজীর্ণ। দেওয়ালগুলে সব স্যঁাতসেতে। পলেস্তরা খসে পড়ছে। এই কেন্দ্রে বর্ষা মৌসুমে কাউকে আসতে হলে হাটু সমান পানি পেরিয়ে আসতে হয়। একজন স্যাকমো, একজন এফডব্লিউজি, একজন আয়া ও একজন ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটর (এফডব্লিউভি) রয়েছেন। এফডব্লিউভি সৈয়দা হাওয়া জানান, প্রায় গত এক বছর থেকে সরকারি ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গড়ে প্রতি মাসে পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। ফিরতে হয় পরামর্শ নিয়ে। তাও লোকবল সঙ্কটে সপ্তাহে তিনদিন পরামর্শ নিতে পারেন। শনি, সোম ও বুধবার।
সে আরো জানান, এখানে বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েরা স্বাস্থ্য সম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ নিতে পারেন। পেটের অনাগত সন্তানের ওজন টা জানতে পারেন। অন্যান্যরা বিভিন্ন পরামর্শ নিতে পারছেন। তবে ওষুধ থাকলে এসব মায়েরা আয়রণ, ক্যালসিয়াম, ফলিক এসিড জাতীয় ওষুধ নিতে পারতেন। কারণ গ্রামের গর্ভবতী অধিকাংশ মায়েরা বাচ্চা হওয়ার আগে ও পরে রক্ত শূন্যতায় ভোগেন বলে সৈয়দা হাওয়া অভিজ্ঞতার আলোকে জানালেন। এই সেন্টারটিতে নরমাল ডেলিভারীর সকল ধরনের সুবিধা রয়েছে। তবে ভবনটির জীর্ণদশায় সবাই আশাহত রয়েছেন। একই দশায় ধানখালী, চাকামইয়া, ধূলাসার, মিঠাগঞ্জ, নীলগঞ্জ, বালিয়াতলীসহ ৮ টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের। ভবনের সমস্যার পাশাপাশি প্রায় এক বছর ধরে সরকারিভাবে সরবরাহকৃত বিনামূল্যে প্রদানের রোগীদের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। রহিমা বেগম নামের এক রোগী জানালেন, তিনি আগে অন্তত জ্বরসহ বিভিন্ন রোগের জন্য এখানে আসলে কমবেশি কিছু ওষুধ পেতেন। এখন কিছুই পাচ্ছেন না।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন হাসান জানান, প্রায় এক বছর ধরে সারা দেশেই ওষুধ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বর্তমানে কিছু ওষুধ পেয়েছেন। শীঘ্রই আটটি কেন্দ্রের পাঁচটিতে বিতরণ করা হবে। আর আটটি কেন্দ্রের মধ্যে মিঠাগঞ্জ, ধুলাসার, লালুয়া ও নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিবার কল্যান কেন্দ্রের ভবন পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো এখন আর মেরামত উপযোগীতা নেই। এছাড়া লোকবল সংকটও রয়েছে প্রকট। পদের বিপরীতে মাত্র এক তৃতীয়াংশ জনবল রয়েছে। যে কারণেও চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ সেবা শতভাগ দেওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শংকর প্রসাদ অধিকারী জানান, তিনি পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেন।









