মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: স্ত্রী ও অনাগত সন্তানের পিতৃত্বের স্বীকৃতির দাবিতে স্বামী কবির গাজীর বাড়িতে অনশন করছেন সিফা নামের এক নারী। সে নিজেকে তিন মাসের অন্ত:সত্ত্বা বলে দাবি করছেন । বুধবার থেকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে আলোচিত এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে ওই কবির গাজীর বাড়ির ঘরটি তালাবদ্ধ করে সবাই সটকে পড়েছেন। লাপাত্তা হয়ে গেছেন। দিনের বেলা সিফা কবির গাজীর বসতঘরের সামনে অবস্থান করছেন। রাতে এক পড়শী বাড়িতে থাকছেন। বিষয় টি এলাকায় আলোচিত রয়েছে। এ ঘটনায় আজ বুধবার রাতে মহিপুর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, রসুলপুর গ্রামের দুলাল গাজীর ছেলে কবির গাজী প্রথম বিয়ের কথা গোপন করে মোবাইলের পরিচয়ে রাজশাহীর বাসিন্দা সিফা নামের এই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে অনলাইনে শরীয়ত মোতাবেক তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে সিফার দাবি। পরবতর্ীতে বাড়িতে এসে কাবিন করে বিয়ে করেন। এর পর কিছুদিন তারা একত্রে বসবাস করেন। সে বর্তমানে ঢাকায় থাকেন বলে জানান।
বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন কবির। পরে স্বামীর খোঁজে সিফা ডালবুগঞ্জে আসেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কবিরের পরিবারের লোকজন ঘরে তালা দিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব ও স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এখন ওই বাড়িতেই অনশনে বসেন সিফা।
সিফা জানান, বিয়ের পর বিদেশে যাওয়ার কথা বলে কবির গাজী তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নানা কৌশলে চার লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়। এখন ডিভোর্স দিয়ে সব সম্পর্ক অস্বীকার করে আসছে । সিফার ভাষ্য, ‘ আমার ছবি এডিট করে অশ্লীল ভিডিও করে কবির সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে।’
ওখানকার ইউপি মেম্বার সোহেল হাওলাদার জানান, বিষয়টি আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করেছেন। ছেলে পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকেছিলেন। কিন্তু তারা আসেনি। মেয়েটি এখন অনেক কষ্ট করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের জানান, মেয়েটার সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। অন্ত:সত্ত্বা অবস্থায় এমনটা করা অমানবিক হয়েছে ।
অভিযুক্ত কবির গাজীকে বহুবার মোবাইল করলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কবির গাজীর বাবা দুলাল গাজী জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজে বাড়ি থেকে দূরে আছেন। তাদেরকে না জানিয়ে ছেলে বিয়ে করছে । মেয়ে এখানে আসছে তাও কারো সাথে যোগাযোগ করে আসেনি।
ডালবুগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ জেহাদি জানান, ওই নারীর একটা লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিষদে কবির গাজীকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তাদের পক্ষে কেউ আসেনি। তাই কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। তিনি জানান, কবির গাজীর আগে বিয়ে হয়েছে। স্ত্রী রয়েছে। গত তিনদিন আগে ওই নারী এলাকায় এসেছে।
মহিপুর থানার ওসি মাহমুদ হাসান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









