সকল প্রকার বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে দল-মত নির্বিশেষে বাউফলের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
তিনি বলেছেন, “আমরা দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সামগ্রিকতা, সবার এবং সবার কল্যাণের নীতিতে কাজ করতে চাই। যার যোগ্যতা ও আমানতদারিতা রয়েছে, তিনি উন্নয়নকাজে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। উন্নয়নকাজে দুর্নীতির কোনো সুযোগ বাউফলে দেওয়া হবে না।”
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কালাইয়া হাইস্কুল ও গরু-মহিষের বাজারসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের সড়কটির উন্নয়নকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে কালাইয়া বাজার, গরু-মহিষের হাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সড়কটি স্থানীয়দের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কালাইয়া বাজারের অন্যান্য উন্নয়নকাজও প্রয়োজনীয়তা ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি এলাকাবাসীর প্রতি সড়কটির যথাযথ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাস্তাটিকে দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এতদিন কালাইয়া বন্দরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে উন্নয়ন হলেও বাজারের সামগ্রিক উন্নয়ন তেমন হয়নি। তবে বর্তমান উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সর্বসাধারণের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এ কার্যক্রম চালু করা হবে বলেও তিনি জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডির প্রকৌশলী ইবনে আব্বাস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ সময় স্থানীয়রা দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে সড়কটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ত। ফলে বাজারে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচলে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হতো। সড়কটির উন্নয়নকাজ যথাযথ মান বজায় রেখে দ্রুত সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের মতে, সড়কটির উন্নয়ন শুধু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতিই নয়, বরং কালাইয়া বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং এলাকার সামগ্রিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।









