পিরোজপুরের কাউখালীতে দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্পের আওতায় বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে অভিভাবক ও কিশোরীদের সচেতনতামূলক সমাবেশ এবং চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে বারোটায় উপজেলার কেউন্দিয়া শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর আয়োজনে এই অনুষ্ঠান হয়। “বাল্যবিবাহকে না বলি, সঞ্চয়ে ভবিষ্যৎ গড়ি, করলে সঞ্চয় ২০০ টাকা সরকার দেবে ৪০০ টাকা এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পিরোজপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ গোলাম রব্বানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক মোঃ নাজমুল আনোয়ার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান, কেউন্দিয়া শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুর রহমান মিজান।
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোঃ মাসুম মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রফিক এবং দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার রিতু। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অত্র প্রতিষ্ঠানের মেয়াদোত্তীর্ণ চারজন কিশোরীর জমাকৃত সঞ্চয় ও সরকারি প্রণোদনা বাবদ মোট এক লক্ষ এক হাজার একশত সাতচল্লিশ টাকার চেক কিশোরী শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি,
জেলা প্রশাসক মোঃ গোলাম রব্বানী বলেন, “বাল্যবিবাহ ও মাদক সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের কিশোরী সমাজ যদি বাল্যবিবাহের শিকার হয়, তবে তাদের শিক্ষা ও জীবন থমকে যায়। আজকের এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো অভিভাবক ও কিশোরীদের সচেতন করা, যাতে তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সোচ্চার হয়। এছাড়া বিআরডিবি-র মাধ্যমে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা প্রদান কিশোরীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার বলেন, আমাদের মেয়েরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। আজ চারজন কিশোরীকে তাদের সঞ্চয় ও প্রণোদনার চেক বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা দেখে অন্য শিক্ষার্থীরাও সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ হবে। করলে সঞ্চয় ২০০ টাকা সরকার দেবে ৪০০ টাকা’ এই স্লোগানটি আজ বাস্তব রূপ নিচ্ছে। আমরা চাই আমাদের উপজেলার প্রতিটি কিশোরী বাল্যবিবাহ ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধিকে না বলে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াক।









