সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত টানা আট মাস ঝাটকা আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করা এবং দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষার লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের ইলিশকে ঝাটকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় ছোট ইলিশ নিধন বন্ধ রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ঝাটকা বড় হওয়ার সুযোগ পেলে তা ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ ইলিশে পরিণত হবে এবং দেশের সামগ্রিক ইলিশ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অসাধু জেলেদের একটি অংশ যদি আইন অমান্য করে নদীতে ঝাটকা শিকার অব্যাহত রাখে, তাহলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন ও সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। এতে একদিকে যেমন ইলিশের স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে ঝাটকা শিকার বন্ধে শুধু প্রশাসনিক অভিযান নয়, প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। বিশেষ করে বাউফলের নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকার জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। জেলেদের আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি বাজারে ঝাটকা বিক্রি ও কেনা বন্ধেও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সচেতন নাগরিকদের মতে, ঝাটকা শিকার বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, বাজার তদারকি এবং প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা গেলে ছোট ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
তারা আরও মনে করেন, ইলিশ শুধু বাংলাদেশের জাতীয় মাছই নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য, অর্থনীতি ও অসংখ্য জেলে পরিবারের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। তাই সাময়িক লাভের আশায় ছোট ইলিশ নিধন না করে ভবিষ্যতের জন্য ইলিশের সম্পদ সংরক্ষণ করতে হবে।
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতার মাধ্যমে আট মাসের নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের বংশবিস্তার ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাই নিজেদের স্বার্থেই ঝাটকা শিকার, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।









