বিকেলটা ছিল অন্য দিনের মতোই। বিলে মাছ ধরতে যাওয়ার আনন্দে মেতে উঠেছিল কয়েকজন কিশোর ও তরুণ। হয়তো মাছ ধরে বাড়ি ফেরার পর কার ভাগে কত মাছ পড়বে, তা নিয়েও ছিল নানা গল্প আর আনন্দের হিসাব। কিন্তু কে জানত, সেই বিকেলই তাঁদের জীবনের শেষ বিকেল হয়ে থাকবে! একটি বজ্রপাত মুহূর্তেই কেড়ে নেবে ছয়টি প্রাণ, নিভিয়ে দেবে কয়েকটি পরিবারের স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার আনন্দ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের ঝবঝবিয়া সোনাপাতিল বিলে ঘটে এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা। মাছ ধরতে গিয়ে বৃষ্টির কবলে পড়ে কয়েকজন একটি পলিথিনের ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই বজ্রপাতের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে তিনজনই শিশু-কিশোর। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন, মালঞ্চি ইউনিয়নের গজমতিকুন্ডা গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে শাওন হোসেন (১৩), নলমুড়া গ্রামের ইসমাইলের ছেলে রব্বেল হোসেন (২২), একই গ্রামের শাজাহানের ছেলে মিজান (১৩), ইবাদুলের ছেলে ইমন (১৫), শাহাদুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৯) এবং নাজিউদ্দিনের ছেলে সাজিদ (১২)। আহতদের মধ্যে হানিফ (১৪) ও রিপন (১৬) রয়েছেন। তাঁদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বৃষ্টি শুরু হলে তাঁরা নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় একটি পলিথিনের ঘরে অবস্থান নেন। কিন্তু সেই আশ্রয়স্থলই মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় মৃত্যুফাঁদে। আকস্মিক বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে পড়েন আশপাশের মানুষ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। শুরু হয় স্বজনদের আহাজারি, কান্না আর স্বজন হারানোর বুকফাটা আর্তনাদ।
মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু বলেন, কয়েকজন কিশোর ও তরুণ বিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। বিকেল ৫টার দিকে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে তাঁরা একটি পলিথিনের ঘরে আশ্রয় নেন। সেখানেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা সাবিহা বলেন, নিহত ও আহতদের নাম-ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে। নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য সরকার নির্ধারিত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। শুক্রবার রাতেই নিহতদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের হাতে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান তিনি।








