গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মকবুল হোসেন সত্তর বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে । ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নারীসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে লাঠিসোঁটা, ধারালো ছোরা ও শাবল জব্দ করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সীচা ছাতিনামারি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মকবুল হোসেন ওই উপজেলার দক্ষিণ সীচা ছাতিনামারি গ্রামের মৃত ফেলান উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় জানায়, দীর্ঘদিন থেকে ১৬ শতক জমি নিয়ে মকবুল হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশী শাহাবুদ্দিন মিয়ার ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ধুবনী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি।
বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন মকবুল হোসেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। হামলায় আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
সুন্দরগঞ্জ থানা ও কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করেন এবং এ ঘটনায় সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নারীসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে লাঠিসোঁটা, ধারালো ছোরা ও শাবল জব্দ করে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন দক্ষিণ সীচা ছাতিনামারী গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম (৫০), শাহাবুদ্দিন মিয়া (৬০), মঞ্জু মিয়া (৪০), রেজাউল করিম (২৮), রাশেদুল ইসলাম (২৮), মো. মোকছেদুল ইসলাম (১৮), আবিল হোসেন (১৮), মিন্টু মিয়া (৩৫), মো. লিটন মিয়া (৩৫),
মোছা. নিরফুল (৪০), কল্পনা বেগম (২৫), নুর ভানু (৪৫), শিল্পী বেগম (৩৫), মোছা. খোরশেদা বেগম (২৬), ফাতেমা বেগম (১৯) ও শাবানা খাতুন (২২)।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নারীসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।









