দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত মোট ১৩ হাজার কোটি টাকার দুটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের কার্যকর প্রচার ও সফল বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পাবনায় টাউন হল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজীকরণ এবং উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক আঞ্চলিক হাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ব্যাংকার, কৃষি ও ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা উপলক্ষে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান, রাজশাহী কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন ঢালী, পাবনা চেম্বারের পরিচালক মো: হারুন অর রশীদ এবং অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ ফজলুল করিম।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু ছাঈদ মুহাম্মদ ইদ্রিস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পাবনা শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এস এম ইদ্রিস আলী।
বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজশাহীর তত্ত্বাবধানে এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লিড ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এবং উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক আঞ্চলিক হাব সৃষ্টির লক্ষ্যে ঘোষিত ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসব স্কিমের আওতায় কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার, কৃষিভিত্তিক ব্যবসার প্রসার, উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
সভা উপলক্ষে বিতরণ করা প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার চেকের মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় প্রায় ২ কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক আঞ্চলিক হাব সৃষ্টির লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার স্কিমের আওতায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সম্পর্কে ব্যাংকার ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষি ও এসএমই খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা আঞ্চলিক অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।









