মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: কলাপাড়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ খালে সুক্ষ্ম ফাঁসের বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে স্বাদু পানির মাছ নিধন চলছে ফ্রি-স্টাইলে। ফলে পোনাসহ সব সাইজের মাছ মারা পড়ছে। মাছের বংশ ধ্বংসের যেন তান্ডব চলছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বহমান এখনো তিন শতাধিক খাল রয়েছে। যার অধিকাংশ স্লুইস সংযুক্ত। এসব স্লুইসগেটেসহ খালের শত শত পয়েন্টে আড়াআড়ি করে জাল পাতা হয়। একদিকে পানির প্রবাহ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। অপরদিকে মারা পড়ছে রেণু থেকে সব সাইজের মাছ। বছরের পর বছর ধরে এভাবে মাছের নিধনের ফলে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি তো দূরের কথা ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। দেশি প্রজাতির কোন মাছ একারণে বেড়ে উঠতে পারছে না। এক দেড় ইঞ্চি থেকে শুরু করে সব মাছ নিধন চলে। এই সুক্ষ্ম ফাঁসের জালে আটকা পড়ছে বোয়াল, কোরাল, পোমা, তপসে, চিংড়ি, বগনা, শোল, বাইলা, টেংড়া, আইড় থেকে সব ধরনের মাছের পোনা। বড় হওয়ার কোন সুযোগ থাকছে না। স্থানীয় হাট-বাজাওে এই পোনা মাছ আবার ছোট ছোট ভাগ দিয়ে বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় লোকজন জানান, সুক্ষ্ম ফাঁসের এই জাল অভ্যন্তরীণ খাল ছাড়াও মরা নদীতেও আড়াআড়িভাবে পাতা হয়। যাত্রীবাহী ট্রলার চালক মেলাপাড়া গ্রামের বাসীন্দা শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি শাখা নদীতে ট্রলারে যাত্রীবহনের কাজ করছেন। এমনভাবে আড়াআড়ি জাল পাতা হয় যে ট্রলার চালানো যায় না। তার অভিযোগ বহুবার মৎস্য অফিসারকে বিষয়টি জানিয়েছেন। কোন প্রতিকার মেলেনি।
এছাড়া চায়না দূয়ারি নামের এক ধরনের জালেও মারা পড়ছে সব ধরনের মাছের পোনা থেকে সবকিছু। এতো সুক্ষ্ম ফাঁেসর জাল ব্যবহার করা হয় যে পানির মধ্যে থাকা জীববৈচিত্র, প্রাণীকূল পর্যন্ত বাঁচতে পারছে না। বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। কিন্তু আবার ছোট্ট ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ নিধন তান্ডব চলতে থাকে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি থেকে গ্রামপুলিশের আন্তরিক উদ্যোগের অভাব থাকায় এভাবে বেআইনী মৎস্য সম্পদের নিধন থামছে না। ফলে সাগরপারের জনপদ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মৎস্য সম্পদ রক্ষা কার্যক্রম সফলতা পাচ্ছে না। উল্টো বিলীন হচ্ছে মাছের বংশ।
কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, তিনি অবিরতভাবে খালবিল জলাশয় দখল-দূষণ বন্ধে অভিযান চালাচ্ছেন। আর প্রতি মাসে ৫-১০বার সুক্ষ্ম ফাঁসের জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করছেন।
তিনি আরো জানান, সোমবার সন্ধ্যায়ও প্রায় দুই লাখ টাকার অবৈধ নিষিদ্ধ জাল খাপড়াভাঙ্গা-মনসাতলীর খাল থেকে জব্দ করে ধ্বংস করে দিয়েছেন। ধারাবাহিভাবে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এই অভিযান পরিচালনার কথা জানালেন তিনি।









