কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী উপজেলা হাসনাবাদ ইউনিয়ন মনিয়ার হাট পশ্চিম পাড়ায় অন্যের জায়গায় জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৬০ বছর বয়সি প্রতিবন্ধী দুক্ষাতি বেওয়া । দীর্ঘদিন যাবত প্রতিবন্ধী দুক্ষাতি বেওয়া মানবেতর জীবন যাপন করলেও তার ভাগ্যে জোটেনি সরকারি আশ্রয়ণের ঘর। বার বার বিভিন্ন জনের কাছে ধর্ণা দিলেও কারো দয়া হয়নি এই ভূমিহীন অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষ টির প্রতি। সুবিধা ভোগের উপযুক্ত হয়েও নিজস্ব মাথা গোজার ঠাঁই না পেয়ে চরম হতাশা আর আক্ষেপ নিয়ে দিন যাপন করছেন। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটলেও মৃত্যুর আগে তার মাথা গোঁজার একটু জায়গার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না তা ভেবেই বেশি কষ্ট নিয়ে আক্ষেপ করেন! মনিয়ার হাট গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় অবস্থিত শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী দুক্ষাতি বেওয়ার বাড়িতে গিয়ে তাদের টানাপড়েনের জীবন যাপনের কথা জানা যায়। প্রতিবন্ধী দুক্ষাতি বেওয়া তার স্বামীকে হারিয়েছে অনেক আগে, নিঃসন্তান দুক্ষাতি বেওয়া অন্যের জমিতে মরিচা পড়া জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছেন। ঘরে রয়েছে একটি নড়বড়ে শয়নের চৌকি, মাটির চুলা, হাড়ি পাতিল, থালাবাসন, মরচেধরা একটা বাক্স, একটা র্যাক, আর দড়িতে ঝুলানো কিছু কাপড়-চোপড় নিয়ে তার সংসার। প্রতিবেশী , নয়ন,বিজয়, রাব্বি, আরিফ, বাবু, নাজমুল জানান, সে খুবই কষ্টে আছে। তার না আছে কোনো ফসলি জমি না আছে বাড়ির জমি। আর পাঁচজন স্বাভাবিক মানুষের মত কাজ করার সক্ষমতাও নেই প্রতিবন্ধী দুক্ষাতি বেওয়ার। নিঃসন্তান দুক্ষাতি বেওয়াকে দেখার মতো কেউ নেই। প্রতিবন্ধী দুক্ষাতি বেওয়া অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোন রকমে সংসার চালায়। তার নামে প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া সরকারী কোন সহায়তা চোখে পড়েনি। তার মাথা গোঁজার জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিলে শান্তিতে রাত পার করতে পারবে। সরকার এত এত সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, অথচ দুক্ষাতি বেওয়া কিছুই পায়নি। কোনো দিন খায় আবার কোনো দিন না খেয়েও থাকে। যে ঘরে বসবাস করে, সেই ঘরটাও বসবাসের উপযোগী নয়। তার উপর আবার নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এব্যাপারে হাসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান কে ফোন করা হলে তিনি বলেন, দুক্ষাতি বেওয়া সরকারি ঘর পাওয়ার দাবিদার, আমার যায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব এবং ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
নাগেশ্বরী অনলাইন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোঃ জেলাল আহম্মদ রানা বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার সকল সচেতন নাগরিক, নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদের সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, হাসনাবাদ ইউনিয়নের সচেতন মানুষ এবং সমাজের বিত্তবানদের —দয়া করে এই অসহায় প্রতিবন্ধী নারীর পাশে জরুরি খাদ্যসামগ্রী, আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আহ্বান জানান।









