পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গুয়াবাড়ীয়া এ বি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রিনা পারভীনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগের তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই তদন্ত কমিটির দুই সদস্যকে বাদ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত আবেদনে ওই দুই সদস্যকে ‘বিতর্কিত’ দাবি করে নতুন তদন্ত কমিটি গঠনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এ আবেদনের পেছনে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয় রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন জাতীয় টেলিভিশন, সংবাদপত্রের অনলাইন ও প্রিন্ট সংস্করণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ অক্টোবর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত আদেশে তিন সদস্যের এ কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয় উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আবুল কালাম সাঈদকে। সদস্য করা হয় উত্তর চরখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হারুন-অর-রশিদ এবং গলাচিপা উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা মোসা. ইসমত আরাকে।
এরপর ১১ অক্টোবরের তদন্ত কমিটি গঠনের আদেশের সূত্র উল্লেখ করে বিদ্যালয়ের প্যাডে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি মোহাম্মদ জাকির হোসাইন ও প্রধান শিক্ষক মুহা. মোশাররফ হোসাইন। আবেদনে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম সাঈদ ও সদস্য ইসমত আরাকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের অনুরোধ জানানো হয়।
আবেদনে দাবি করা হয়, আহ্বায়ক আবুল কালাম সাঈদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন এবং তিনি সব সময় প্রতিষ্ঠানের বিপক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে, সদস্য ইসমত আরার বিরুদ্ধেও বিতর্কিত আচরণের অভিযোগ আনা হয়। আবেদনে বলা হয়, পূর্বের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁকে পরীক্ষা ও প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ থেকে বিরত রেখেছিলেন এবং তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের তদন্ত কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে আবেদনকারীদের এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এদিকে, তদন্তাধীন শিক্ষিকা রিনা পারভীনের স্বামীই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হওয়ায় তদন্ত কমিটি পুনর্গঠনের আবেদনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে কমিটির সদস্য পরিবর্তনের আবেদন যথাযথ কারণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তের মূল বিষয় হলো—শিক্ষিকা রিনা পারভীন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন কি না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সরেজমিন তদন্ত, হাজিরা খাতা, ছুটির নথি ও বেতন-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।









