আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটা প্রমাণ দিতে পারলে চিরজীবনের জন্য রাজনীতি ছেড়ে দেব’ বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন।
তিনি বলেন, ‘আপনি বলে বেড়ান, আপনি কম্বল দিয়েছেন, ছাগল দিয়েছেন—আপনি এত কিছু দেন, কিন্তু নিজের অর্থে দেন না। ডোনেশন নিয়ে দেন। আসলে এ ডোনেশনটা কী? আপনারা নিলে ডোনেশন আর আমরা দিলে সেটা চাঁদাবাজি হয়ে যায়। আপনাদের মানুষ ডোনেশন দেয়, আর আমাদেরটা চাঁদাবাজি—এসব প্রপাগান্ডা বন্ধ করেন।’
রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফয়সল বলেন, ‘মানুষের চরিত্র হনন করার জন্য আপনারা এক পায়ে লাফিয়ে যান, এটা সঠিক নয়। এটা কোনো ধর্মেই এলাও করে না। আসুন, আমরা এসব জায়গা থেকে সরে গিয়ে একটি সুন্দর, সাবলীল, প্রেমময় ও ভালোবাসার বাংলাদেশ গড়ে তুলি, একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষের মানুষকে আমার বড় ভাই (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) গত নির্বাচনের সময় বলেছিলেন, দেলাওয়ার খুব ভালো ছেলে। আমরা কাউকে খারাপ ছেলে বলি না। সেটা আমাদের অভ্যাসে নেই, আমাদের প্র্যাকটিসে নেই। তিনি ভালো মানুষকে ভালো বলেন। তার মানে কি তিনি এই কথা বলেছেন, ফয়সল খারাপ ছেলে আর দেলাওয়ার ভালো ছেলে? আমার পরে দেলাওয়ারই এখানকার এমপি হবে—এ ধরনের কথা বলার অর্থ মানুষকে বিভ্রান্ত করা। মানুষকে বিভ্রান্ত করা ঠিক নয়।’
মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ‘গত নির্বাচনে তারা সমানে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে। কতজন এখন পর্যন্ত বেহেশতের টিকিট পেয়েছে, তা আমরা জানি না। আপনারা হয়তো জানতে পারেন, আমি কিন্তু জানি না। আমরা মনে করি, পৃথিবীকে বেহেশত বানানোর জন্য আমাদের কর্ম, আমাদের চেষ্টাই অনেক বেশি প্রয়োজন। পৃথিবীটাকে সুন্দর করা প্রয়োজন, ঠাকুরগাঁওকে সুন্দর করা প্রয়োজন, বাংলাদেশকে সুন্দর করা প্রয়োজন। মানুষে মানুষে হিংসা-বিদ্বেষ, জিঘাংসা বন্ধ করা প্রয়োজন।’
নির্বাচনকালীন মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. আলম, ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর, মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আবু রায়হান, বাংলাদেশ চিনি শিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও চিনি কল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খান রতনসহ শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।









