বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় বাধা দিতে গিয়ে চারজনকে মারধর করে আহত করা হয়েছে।
পরদিন শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ফের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘর ভাঙচুর করে নিয়ে যাওয়া , মালামাল লুট ও ফলদ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
এ ঘটনায় উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের বড় রঘুনাথপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা (৫০) বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে নূরু হাওলাদার (৭০), আঃ লতিফ হাওলাদার (৬৬), শামীম হাওলাদার (৪৫), হাবিবুর রহমান (৫৭), মাসুদ হাওলাদার (৩০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫), রফিক হাওলাদার (৩৫) ও ইউসুফ হাওলাদার (৩০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাদীর সঙ্গে অভিযুক্তদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত ২ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে অভিযুক্তরা লোহার পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাদীর বাড়ির পূর্ব পাশে গিয়ে তার ভাই মজিবুর রহমান ইমাম মোল্লাকে মারধর করেন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে বাদীর স্ত্রী হাজেরা আক্তার মুন্নী, হারুন আকন ও খোকন আকনকেও মারধর করা হয়। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় অভিযুক্তরা প্রাণনাশ এবং বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের হুমকি দিয়ে চলে যান।
এর পরদিন শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা ফের দলবদ্ধ হয়ে লোহার শাবল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাদীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
এ সময় খাট, চৌকি, তোষক, কম্বল, বালিশ, চালের ড্রাম, ধান-চাল, হাঁড়ি-পাতিল, ছাগল, লোহার তার, সিমেন্টের পিলার, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ছাড়া বাড়ির পেছনে থাকা বিভিন্ন ফলদ ও কলাগাছসহ প্রায় ১৫০টি চারা গাছ কেটে ও উপড়ে ফেলে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী আনোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার এএসআই মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “৯৯৯ জরুরি সেবায় ফোনে অভিযোগ পাওয়ায় আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি বিরোধীয় জমিতে ঘর ভেঙে ফেলার ঘটনা শুনতে পাই। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ে আসি।”
তবে অভিযোগে উত্থাপিত হামলা, লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।









