পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা সদরসংলগ্ন হাজিরহাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীতে তীব্র স্রোত ও পানির চাপে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উপজেলা প্রশাসন সর্বসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
গত শুক্রবার এলাকায় মাইকিং করার পর ভাঙনকবলিত এলাকায় সাইনবোর্ড স্থাপন করে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। জানা গেছে, পানির চাপে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের একটি অংশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া জিওব্যাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হঠাৎ নদীভাঙনে প্রায় দুই শতক জায়গার কবরস্থান নদীগর্ভে চলে গেছে। এলাকার বাসিন্দারা নদীভাঙনের ভয়াবহ রূপ দেখে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। নদীভাঙনের ভয়াবহ চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। উৎসুক জনতা নদীভাঙন দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজিরহাট লঞ্চঘাটের উত্তর পাশে নদীর তীররক্ষা বাঁধ রক্ষার জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা শতাধিক জিওব্যাগ পানির তীব্র স্রোতের টানে ধসে পড়ে পানিতে ডুবে গেছে। তীরসংলগ্ন পাকা সড়কের পিচ ও মাটি নদীতে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি সড়কের সংযোগস্থলে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই তেঁতুলিয়া নদীতে পানির চাপ ও তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। হাজিরহাট লঞ্চঘাট ও মসজিদসংলগ্ন নদীর তীরে ধস দেখা দিয়েছে।
নদীভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে জিওব্যাগ ফেলা হলেও স্রোতের টানে ব্যাগগুলো নদীতে বিলীন হতে চলেছে। বাঁধের পাশে সড়কের কার্পেটিং ও মাটি ধসে পড়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা ঝুঁকির মধ্যে থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান গৃধা জানান, নদীভাঙন দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও এসে ফাটলের একেবারে সামনে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। এতে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়া অন্যদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।








