তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় ফুটবল খেলায় দুই দলের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে।
সংঘর্ষে আপন দুই ভাই মিরাজ খান (৩০) ও মিশন খান (২৭) গুরুতর আহত হন। তাদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মিরাজ খানকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত দুই ভাই কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন খানের ছেলে।
এ ঘটনায় আবুল হোসেন খান বাদী হয়ে মামলা করলে জাহাঙ্গীর হোসেন নামে একজনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাটিভাঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কালিকাপুর একাদশ ও মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশের মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালের খেলা চলছিল। কালিকাপুর একাদশ এক গোলে এগিয়ে ছিল। খেলা শেষ হওয়ার প্রায় ১০ মিনিট আগে দুই দলের দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।
এ সময় কালিকাপুর একাদশের টিম লিডার মিরাজ খানকে অপর দলের টিম লিডার রাকিব তালুকদারের লোকজন ইট দিয়ে মুখমণ্ডলে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে মিরাজের মুখমণ্ডল গুরুতরভাবে জখম হয়। সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—মিশন খান (২৭), জলিল খান (৬০), মজিবর প্যাদা (৪৮), লাল মিয়া (৫২), বেল্লাল মুন্সি (২৭), রাসেল গাজী (৩২), হান্নান মৃধা (৬০), কামাল (৪৫), সাইফুল কাজী, সানাউল্লাহ (২৮), আবুল হাওলাদার (৬০), শাকিল (২৫), রাখাইন ডিস্কু, জাকির হোসেন (৩৫), কবির হোসেন (৩৮), আলমগীর হোসেন (৩৭), আরিয়ান তালুকদার (১৮), মানিক (২৫), রনি প্রমুখ।
এদিকে ফুটবল খেলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কামাল মৃধা জানান, চাইনিজবার ফুটবল টুর্নামেন্টে ৩২টি দল অংশগ্রহণ করেছে। বুধবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশ দায়ী বলে তিনি দাবি করেন। তাদের কারণে অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এমনকি খেলা কমিটির লোকজনের গায়েও হাত তোলা হয়েছে বলে তিনি জানান।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









