পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষকে পৌর বিএনপির কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নোটিশে নির্ধারিত সময়ে জমির কাগজপত্র, সাক্ষী ও প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ উভয় পক্ষকে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুপস্থিত থাকলে অভিযোগের বিষয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি কুয়াকাটা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাঞ্জুপাড়া এলাকায় হোটেল সান মেরিনা-সংলগ্ন একটি জমিকে কেন্দ্র করে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমানের স্বাক্ষরে জারি করা নোটিশে বাদী হিসেবে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আকন এবং বিবাদী হিসেবে মো. মোশারফ হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় পৌর বিএনপি কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণাদি নিয়ে উভয় পক্ষকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে কোনো পক্ষ উপস্থিত না থাকলে তাদের অনুপস্থিতিতেই অভিযোগের বিষয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে নোটিশ পাওয়ার পর এর এখতিয়ার ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিবাদী মো. মোশারফ হোসেন। তিনি দাবি করেন, ওই জমি নিয়ে বিরোধ বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে হোটেল নির্মাণের জন্য তিনি জমিটি রেজিস্ট্রি করেন। পরবর্তীতে নামজারি ও নিয়মিত খাজনা পরিশোধের পাশাপাশি জমিতে সীমানাপ্রাচীর, সেমিপাকা ঘর ও কয়েকটি কটেজ নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন।
মোশারফ হোসেনের দাবি, বিএস রেকর্ডে ভুলবশত অন্য একজনের নামে জমিটি রেকর্ড হওয়ায় তিনি ২০২১ সালে পটুয়াখালীর দ্বিতীয় সাব-জজ আদালতে ৩৭৯/২১ নম্বর মামলা করেন। মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে এবং জমিটির বিষয়ে আদালতের স্থগিতাদেশও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আকন সম্প্রতি ওই জমিকে রাখাইন সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দাবি করে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন।
মোশারফ হোসেন বলেন, বিএনপি কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য তাকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও নোটিশে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে এ ধরনের বিরোধে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আছে কি না, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তার স্বাক্ষরে উভয় পক্ষকে বিএনপি কার্যালয়ে হাজিরা এবং অনুপস্থিত থাকলে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ আছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাক্ষরটি তার কি না, তা যাচাই করে দেখতে হবে। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান তিনি।
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসল্লির বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান টোটন বলেন, নোটিশটি তাদের নজরে এসেছে। বিএনপির এ ধরনের সালিশ করার কোনো এখতিয়ার নেই। বিষয়টি তিনি খোঁজখবর নিয়ে দেখছেন।









