মেসবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিধবা মরিয়ম বেগমের (৪৫) জমি অধিগ্রহণের ৪৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান প্যাদার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা টেলিভিশন জার্নাালিস্ট ফোরাম কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম।
এসময় মরিয়মের বাবা মোসলেম আলী দফাদার, ভাই আব্দুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মজিবর রহমান বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ওই মহিলার কাছে তিনি বিপুল অংকের টাকা পাবেন- যা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান। পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য বিয়ের কথিত নাটক সাজিয়ে তার ভাভমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এমন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি এ বিষয় আইনগত পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান।
তিন সন্তানের জননী মরিয়ম বেগম লিখিত বক্তব্যে জানান, বিয়ের ১৭ বছর পরে তার স্বামী কামাল হোসেন মারা গেছেন। স্বামীর জীবদ্দশায় মজিবর প্যাদা তাঁর বাড়ির পাশে কলাউপাড়ায় মাছের ব্যবসা করতেন। সেই সুবাদে বাড়িতে যাতায়াত ছিল। স্বামীর মৃত্যুর পরে বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রলোভন দেওয়া হতো। প্রায় চার বছর আগে পটুয়াখালীতে গিয়ে ভুয়া কাবিননামা করে বিয়ের নাটক করে তাকে গ্রহণ করে নেয়। পরে তার বাবা-মাকে ম্যানেজ করে জমিজমা আত্মসাতের চেষ্টা চালায়।
মরিয়মের দাবি, ২০২১ সালে পায়রা পোর্ট তাঁদের বসতভিটাসহ জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এসময় কৌশলে তাঁদের ৪৭ লাখ টাকা মজিবর রহমান আত্মসাৎ করে সটকে পড়েন। ওই টাকা চাইতে গেলে তার বাবা-ভাইকে আসামি করে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করেন। বর্তমানে পাওনা টাকার জন্য তারা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। টাকা না দিয়ে উল্টো বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও মরিয়মের দাবি।
এ ব্যাপারে মজিবুর রহমান বলেন, মামলায় আটকে যাওয়ার ভয়ে এখন মিথ্যা একটি নাটক সাজানো হয়েছে। এ বিষয় সম্পুর্ণ পেপার্স তার কাছে রয়েছে। মানসম্মান ক্ষুণ্নের জন্য এমন বানোয়াট কথাবার্তা বলে অন্যায়ভাবে সুবিধা নেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে মজিবুর রহমান এর আইনি প্রতিকার চেয়েছেন। তিনি সম্পুর্ণ বিষয়টি আইনভাবে মোকাবেলা করবেন বলেও জানিয়েছেন।









